বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নিগার সিদ্দিক কলেজে টাকার বিনিময়ে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

নেপথ্যে ‘অধ্যক্ষ ও সভাপতির গোপন ব্যবস্থাপনা’
  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০৭-২০২৬ ইং
নিগার সিদ্দিক কলেজে টাকার বিনিময়ে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ আবু নাসির এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সরাসরি যোগসাজশে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা ও সরকারি প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, গত জুনে কলেজের বাংলা বিভাগে 'আরলিজা খাতুন' নামের এক ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  এতে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, গত জুনে বিধিবহির্ভূতভাবে কোনো প্রকার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি বা স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুনকে ডিগ্রি শাখাতে নিয়োগ দেখিয়ে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে সমন্বয় করা হয়েছে। অথচ ডিগ্রি শাখাতে বাংলা বিভাগে যে তিনজন শিক্ষকের নাম আছে সেখানেও আরলিজার নাম নেই। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কলেজের শিক্ষক হাজিরা খাতা কিংবা ব্যানবেইজের (ইঅঘইঊওঝ) নথিপত্রে আরলিজা খাতুন নামে কোনো শিক্ষকের অস্তিত্ব ইতঃপূর্বে ছিল না। এমনকি কলেজের কর্মরত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীও আরলিজা খাতুন নামে কাউকে চেনেন না বা কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, এনটিআরসিএ (ঘঞজঈঅ) বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশ ছাড়া কোনো বেসরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না।  অথচ নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসান মিলে নিজস্ব গোপন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই নিয়োগ দিয়েছেন।


অভিযোগ রয়েছে, বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুনের এই নিয়োগের জন্য মোটা অঙ্গের লেনদেন হয়েছে। এছাড়া যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসান এবং অধ্যক্ষ আবু নাসির তাদের পদ ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিধি শিথিল করেছেন।


আরও অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ সদস্যদের না জানিয়ে, শূন্যপদের তথ্য গোপন করে এবং রেজুলেশন ও শিক্ষক-কর্মচারীগণের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই ভুয়া নিয়োগকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর এই অবৈধ নিয়োগের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।


কলেজের শিক্ষকদের মতে, যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকেরাই এমন কাজের সঙ্গে জড়িত, সেখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বজায় রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 


এসব অনিয়মের বিষয়ে ১৪ জুলাই নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তিনি সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে দাবি করলেও নিয়োগ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র, শিক্ষক হাজিরার প্রমাণ বা এনটিআরসিএ-এর অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হন।


অন্যদিকে, গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এবং জালিয়াতির প্রমাণ লুকাতে বিভিন্নভাবে অধ্যক্ষ ও সভাপতি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ শিক্ষা কর্মকর্তা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি স্থানীয় সচেতন মহল জোর দাবি জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বে যেন এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।  আর তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ চক্রকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

আপনাদের সঙ্গে আমরা আছি : উদ্যোক্তাদের প্রধানমন্ত্রী