দামুড়হুদা মডেল মসজিদে নারী কর্মীদের সমাবেশ নিয়ে স্থানীয়দের চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠান শেষ প্রান্তে স্থানীয় এলাকাবাসীর চোখের মুখে পড়তে হয়। এদিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি না নিয়েই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হলরুম ভাড়া দেওয়ায় মডেল মসজিদের সুপারভাইজার শাজাহান আলীকে শোকজ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছুটির দিনে মডেল মসজিদের সুপারভাইজার শাজাহান আলীর তত্ত্বাবধানে তা'লীমুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ব্যানারে ‘নারী জামায়াতের’ উদ্যোগে কয়েকশ নারীকে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়াই সরকারি মডেল মসজিদের সভাকক্ষ ভাড়া দিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে বিপুলসংখ্যক নারী মসজিদে আসেন। কর্মসূচি চলাকালে মসজিদের ভেতরে অনেক ইজিবাইক রাখা হয়েছিল বলেও তারা দাবি করেন। অনুষ্ঠান শেষে একযোগে সেসব ইজিবাইক বের হয়ে আসে। এছাড়া কয়েকটি কালো রঙের মাইক্রোবাস দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারি মডেল মসজিদে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের প্রতিবাদ জানান। এসময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদেরও সেখানে দেখা যায়। একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মসজিদের ভেতরে অবস্থানরত নারীদের নিরাপদে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে সুপারভাইজার শাজাহান আলীর নিকট ভাড়ার রশিদ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
মডেল মসজিদের সুপারভাইজার শাজাহান আলী বলেন, "তারা কুরআন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান কর্মসূচির কথা বলে সভাকক্ষ ভাড়া নিয়েছিল। ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে হলরুমটি দেওয়া হয়। তবে তারা কারা, কী ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল, সে বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি জানানো হয়নি।"
সভাকক্ষ ভাড়ার কোনো রশিদ বা রেজিস্টারে এন্ট্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নায়েব বলেন, এরা আমাদের কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ নয়। তবে আমাদের কোনো লোকজন কুরআন শিক্ষা নেওয়ার জন্য ওখানে উপস্থিত থাকতে পারে।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু বলেন, সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিনা অনুমতিতে একটি রাজনৈতিক দলের মহিলাদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজনকে স্থানীয় মানুষ মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, "সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি এবং ভেতরে থাকা নারীদের নিরাপদে বের করে দিই। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।"
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী ইয়াসমিন বলেন, এত বড় একটি আয়োজনের বিষয়ে আমাকে অবহিত করা হয়নি এবং কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। সরকারি মডেল মসজিদের সভাকক্ষ এভাবে ভাড়া দেওয়ার এখতিয়ার সুপারভাইজারের নেই। সুপারভাইজারের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামীকাল বিকেল ৩টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা