সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদায় বাবাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ

মা-ভাইসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৭-২০২৬ ইং
দামুড়হুদায় বাবাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ

দামুড়হুদা উপজেলার মোক্তারপুর ইসলামপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধ ও জমি-জমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে এক কৃষককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. নায়েব আলী গত শনিবার রাতে দামুড়হুদা মডেল থানায় মা ছিবরা খাতুন (৫৫), ভাই সাইফুল ইসলাম ওরফে সাহেব (৪০), চাচা মো. সাত্তার (৪৫), ভাবি মুসলিমা খাতুনসহ (৩৫) চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, কৃষক শামসুল আলমের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ভাগ-বণ্টন ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা এর আগেও নায়েব আলীর বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে মামলা-জিডি করেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে তার বাবা শামসুল আলমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।


লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে শামসুল আলম চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাটি জানতে পারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ৩ জুলাই সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে স্ট্রোক হয়েছে বলে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শামসুল আলমের মৃত্যু হয়।


নায়েব আলীর দাবি, বাবার মরদেহে বিভিন্ন স্থানে নীলাভ আঘাত ও রক্তজমাট চিহ্ন ছিল। তার অভিযোগ, নির্যাতনের কারণেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


নিহত শামসুল আলমের ভাই আবু বকর জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি গিয়ে দেখতে পাই তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিবেশী আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, আমি শুনেছি তাকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সাহেব বলেন, আমার মা ও আব্বা শুয়ে ছিল, পরে মা আমাকে ডেকে বলে, তোর বাপ মারা যাচ্ছে, তাড়াতাড়ি আয়। তখন আমার এক প্রতিবেশী মামি ও আমি গিয়ে বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বাবা মারা যায়।


নিহতের স্ত্রী ছিবরা খাতুন বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আজাদ রহমান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আন্দুলবাড়ীয়ায় আইএফআইসি ব্যাংকের মধুমাস উৎসব