সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদায় আমের বাম্পার ফলন, তবুও বাগান মালিকদের মধ্যে হতাশা

ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত ক্রেতা নেই, বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি
  • আপলোড তারিখঃ ০৮-০৬-২০২৬ ইং
দামুড়হুদায় আমের বাম্পার ফলন, তবুও বাগান মালিকদের মধ্যে হতাশা

দামুড়হুদা উপজেলায় ৭ শত ১৫ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। প্রতিবারের তুলনায় এবার গাছে গাছে মন মাতানো দৃশ্য। আম বাগানে ঢুকলে আম পাকার গন্ধ। তবে বাগান মালিকদের মধ্যে রয়েছে হতাশার ছাপ। 


আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর আমের ভরা মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হিমসাগর, বম্বাই, আম্রপালি প্রথম প্রজাতির প্রতি মণ পাইকারি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। হিমসাগর ও বম্বাই আম বিক্রি হয়েছিল প্রতি মণ ৪ হাজার টাকায়। কিন্তু এবার প্রতি মণ আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। আর হিমসাগর ও বম্বাই আম প্রতি মণ ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


দামুড়হুদায় ফলের বাজার না থাকায় মূলত আম নিয়ে যাওয়া হয় পাশ্ববর্তী উপজেলা জীবননগরে। সরেজমিনে জীবননগর বাজার ঘুরে কৃষক, আড়তদার ও পাইকারদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, বাজারটি প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম থাকে। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলা ও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রান্তিক চাষীরা আম বোঝাই পরিবহন নিয়ে হাটে আসে। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আম ব্যবসায়ী ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা দরদাম করে প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় আম ক্রয়-বিক্রির চলছে। আম বিক্রি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু খুশি নন আম চাষীরা।


দামুড়হুদা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আমচাষী তারিক বলেন, ‘আমি একজন কৃষি উদ্যোক্তা, এর পাশাপাশি আমের ব্যবসা করি। কঠোর পরিশ্রমের ফসল বিক্রি করতে এসে যদি পুঁজি হারানোর ঝুঁকি থাকে, তাহলে আমরা আমের চাষ ও ব্যবসা করবো কী করে?’


আড়তদার মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ফলের দাম স্মরণকালের নিম্নমুখী। আম্রপালির দাম এখন প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ বা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছিল ১৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। হিমসাগর আম বর্তমানে প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা গত সপ্তাহেও ১৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ফলে এই মূল্যে বাগানমালিকেরা পুঁজিও তুলতে পারবেন না।’


দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, কৃষিনির্ভর জনপদে প্রান্তিক কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং বাজারজাত সহজ করতে হবে; বিশেষ করে আম রপ্তানির ব্যবস্থা করা জরুরি। এবার আগে আম পরিপক্ব হওয়ায় ন্যায্যমূল্য মিলছে না। বাজারে পাইকারও কম।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় ৪৮ ঘণ্টা প্রাইভেট চেম্বার ও ক্লিনিক বন্ধের ঘোষণা