বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

১৬তম গ্রেডের পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

কেরুতে পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগ
  • আপলোড তারিখঃ ১০-০৬-২০২৬ ইং
১৬তম গ্রেডের পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা অফিস আদেশ এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক কর্মীর তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে ১৬তম গ্রেডভুক্ত বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন- মো. জহিরুল ইসলাম, বিক্রয় সহকারী, ঢাকা সেলস অফিস, মো. হাসান, বিক্রয় সহকারী, ঢাকা সেলস অফিস, মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত, স্টোর কিপার, ঢাকা সেলস অফিস, মো. হাসান, বিক্রয় সহকারী, ঢাকা সেলস অফিস, মো. তোফায়েল আহমেদ, বিক্রয় সহকারী, চট্টগ্রাম বিক্রয় অফিস, শেখ কাওসার ইসলাম, বিক্রয় সহকারী, কক্সবাজার বিক্রয় অফিস ও ফিরোজ আহমেদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, কক্সবাজার বিক্রয় অফিস।


সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব পদ মূলত ১৬তম গ্রেডভুক্ত এবং স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন কর্মরত জুনিয়র কেরানিদের মধ্যে থেকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিনিয়র কেরানি বা সমমানের পদে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা অফিস আদেশ (সূত্র নম্বর কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮-০৫-২০২৬ খ্রি.) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের জন্য পাঁচজনকে ১ জুন ২০২৬ থেকে ২৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য ‘কানামনা’ (কাজ নেই, মজুরি নেই) ভিত্তিতে পুনরায় কাজ করানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


অফিস আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিরা হলেন- মো. তোফায়েল আহমেদ, বিক্রয় সহকারী, চট্টগ্রাম বিক্রয় অফিস (১৬তম গ্রেড), শেখ কাওসার ইসলাম, বিক্রয় সহকারী, কক্সবাজার বিক্রয় অফিস (১৬তম গ্রেড), ফিরোজ আহমেদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, কক্সবাজার বিক্রয় অফিস (১৬তম গ্রেড), মো. সাজেদুর রহমান (বকুল), নিরাপত্তা প্রহরী, কক্সবাজার বিক্রয় অফিস (২০তম গ্রেড), মো. নাজমুল হাসান, নিরাপত্তা প্রহরী, কক্সবাজার বিক্রয় অফিস (২০তম গ্রেড)।


অভিযোগকারীরা বলছেন, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। অথচ এসব বিক্রয় অফিসে লাখ লাখ টাকার পণ্য, নগদ অর্থের হিসাব এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালিত হয়।
তাদের প্রশ্ন, যেসব কর্মীর প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র‍্যাচুইটি বা স্থায়ী চাকরির সুবিধা নেই, তাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পরিচালনা করা হলে জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে? এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, কেরুর বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুসারে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হোক এবং দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা স্থায়ী কর্মচারীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক লোক নেই। কয়েকটিতে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

আসছে ৫ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন