একসময় শুধু পারিবারিক চাহিদা পূরণে বাড়ির আঙিনায় লাউ চাষ করা হতো। ছোট মাচা, গাছের ডাল কিংবা ঘরের চালে লাউগাছ তুলে দেওয়া ছিল সাধারণ দৃশ্য। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে চিত্র। এখন কম খরচ ও কম সময়ে ভালো লাভ হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন।
উপজেলার উথলী গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কৌশিক রহমান দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করেছেন। গত বছর অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়লেও এবার সফলতার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাচাজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাউ। ক্ষেত থেকেই লাউ সংগ্রহ করে কার্টনে ভরে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। প্রতি কার্টনে ৩০টি করে লাউ রাখা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন তিন কার্টন লাউ বাজারজাত করছেন কৌশিক।
তিনি জানান, দেড় বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া সার বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। ময়না জাতের লাউগাছে মাত্র ৫২ দিনের মধ্যেই ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিদিন ঢাকায় তিন কার্টন লাউ পাঠানো হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
কৌশিক রহমান বলেন, সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমানে প্রতি কার্টনে প্রায় এক হাজার টাকা লাভ থাকে। ঢাকার ব্যবসায়ীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দেন। আরও প্রায় এক মাস এভাবে লাউ বিক্রি করা যাবে। এরপর আবার নতুন করে চারা রোপণ করা হবে। বাজার ভালো থাকলে মাসে এক লাখ টাকার বেশি আয় সম্ভব বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করলেও লাউ চাষ তুলনামূলক বেশি লাভজনক। তার মতো অনেক কৃষক এখন লাউ চাষ করে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হচ্ছেন।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষের পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এ চাষে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লাউয়ের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন জাতের লাউ, গাছের পরিচর্যা ও মাচা তৈরির বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদক উথলী