দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি আমবাগান থেকে গাছ চুরির মামলায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে দামুড়হুদা আমলী আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরান ঢালী গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা মুক্তিপাড়ার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার মো. করিমুজ্জামান ওরফে মিঠু (৫৫), কোর্টপাড়ার মৃত হায়দার আলীর ছেলে বকুল শেখ (৫১), দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের সুরত আলী মণ্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম (৬৫) এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে ওসমান আলী (৪৫)। পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দামুড়হুদার চন্দ্রবাস গ্রামের মৃত মওলা বকসের ছেলে বাহালুল হকের শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের সামনে প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর একটি বাগান রয়েছে। গত ৯ মার্চ বেলা ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি সেখানে অনধিকার প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির ১১০টি গাছ কেটে নিয়ে যায় এবং কয়েকটি আমগাছের ডালপালা নষ্ট করে। এতে প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
চুরি হওয়া গাছের মধ্যে রয়েছে ১৫টি মেহগনি, ৫টি লম্বু, ১৮টি কচালম্বু, ২টি একাশি ও ৭০টি বাঁশ। এছাড়া আমগাছসহ অন্যান্য গাছের ডালপালা কেটে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী বাহালুল হক দামুড়হুদা মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৪৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শুভজিৎ পাল জানান, চুরি হওয়া গাছ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত চার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগানটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেখানে পীর একদিল শাহ নামের কথিত একটি মাজার রয়েছে দাবি করে আসামিপক্ষ অতীতে বাদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছিল। তবে সেই মামলাগুলোর বেশিরভাগ থেকেই বাদীপক্ষ অব্যাহতি পেয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদক