চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্ট মোড় ও বড় বাজার এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে দ্রুত ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টা বিকেল থেকে ৪টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে খাদ্যে নিষিদ্ধ উপাদান মিশ্রণের অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪২ ধারায় রশিদুল হকের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জমজম হোটেলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন সংরক্ষণ করার অপরাধে একই আইনের ৫১ ধারায় রফিকুল আলমের রনক ড্রাগ হাউজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও পোকাযুক্ত বেগুন ব্যবহার করে বেগুনি তৈরির অপরাধে আইনের ৪৩ ধারায় এ.এম.এম আরিফের ভোজন বিলাস নামক প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে সর্বোমোট ২২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ও কর্মচারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এবং এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাজারে খাদ্যের মান বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হোটেল, গ্যাসের দোকান ও ফলের দোকানেও তদারকি করা হয়। এসময় ব্যবসায়ীদের মানসম্মত পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য বিক্রি না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এসময় সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল, সদর পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বার্থে বাজার তদারকি ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক