রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে র‍্যালি ও প্রভাতফেরিসহ বর্ণাঢ্য কর্মসূচি
  • আপলোড তারিখঃ ২২-০২-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

চুয়াডাঙ্গাসহ দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা, দর্শনা, জীবননগর ও মুজিবনগরে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি, প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে।


চুয়াডাঙ্গা:
সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় যথাযথ মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল রাত ১২টা ১ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, জাতীয় পতাকা (অর্ধনমিত) উত্তোলন, শিশুদের ছড়া কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন, শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ র‌্যালি নিয়ে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে কবিতা আবৃত্তিসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিশুদের ছড়া, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা শিশু একাডেমি। বাদ যোহর জেলার সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।


চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ ও পৌর কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আয়শা আক্তার রিক্তার সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘আপনারা জানেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৫ কোটি আর পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থাৎ বর্তমান পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিলো ৩ কোটি। কিন্তু তারপরেও পশ্চিম পাকিস্তান চাইলো রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে। এটা একটা বৈষম্য। ৫ কোটি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা হবে না, এমন কথায় ওই সময়ের ছাত্র সমাজ এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করেছিল বিধায় আজ আমরা বাংলায় কথা বলছি। তাদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা এই ভাষা পেয়েছি। এবং এই ভাষা দিবসটি শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বে উদ্‌যাপন হয়। একজন বাঙালি হিসেবে এই মাটির সন্তান হিসেবে এটা আমার জন্য গর্বের’।


তিনি আরও বলেন, ‘ভাষা দিবসে আমি দেখেছি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দি গান বাজে। মাথার ভিতর যদি হিন্দি ঘুরে আর মুখে বাংলা তাহলে কিন্তু হবে না। তাহলে এই দিনটির তাৎপর্য আসবে না। তখনই এইদিনের তাৎপর্য প্রকাশ পাবে যখন আপনি এই ভাষাকে মাথায় ও মনের ভিতর গেঁথে রাখবেন। এবং আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বলব, যখন আপনার প্রতিষ্ঠানে কোন অনুষ্ঠান হবে তখন যেন বাংলা ভাষাই প্রথম প্রাধান্য পাই’।


তিনি বলেন, আমরা বাংলা ভাষা যেমন রপ্ত করবো, পাশাপাশি ইংরেজিও রপ্ত করবো। ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। একটি আমার মায়ের ভাষা আরেকটি দুনিয়ার সাথে চলতে গেলে প্রয়োজন। তাই দুটিই আমাদের প্রয়োজন’।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সারাবছর যদি মাথার মধ্যে অন্যদেশের ভাষা ঘুরে আর বছরের একটা দিন আমরা এখানে এই ভাষা দিবস পালন করতে আসি, তবে এটা তো হলো না। যারা এই ভাষার জন্য জীবন দিলো, আমরা তো তবে তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে ব্যর্থ হলাম। আমরা আমাদের ভাষা শহিদের ভুলে যেতে পারিনা, তাদের অবদান অমূল্য’। আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, বীর প্রতীক সাইদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দীকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জুলাই যোদ্ধা সিরাজাম মুনীরাসহ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিক উজ জামান, সিভিল সার্জন হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সহকারী কমিশনার আলাউদ্দিন আল আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডলসহ চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধগনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম কর্মীরা। অনুষ্ঠান শেষে একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশুদের ছড়া কবিতা, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, ও সংগীত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় যথাযথ মর্যাদায় মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া আলোচনা সভা ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহিদ মিনারে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, কলেজ ও স্কুলের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুষ্পমাল্য নিয়ে শহিদ মিনারে এসে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে প্রভাতফেরি বের করা হয়। পরে সকাল ৮টায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করা হয়। এরপর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের মূল ভিত্তি। শহীদদের রক্তে অর্জিত এই বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে সঠিকভাবে ব্যবহার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে একুশের প্রকৃত চেতনা ও শুদ্ধ ভাষা ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ নিই।


তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের সবসময় প্রেরণা যোগায়।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম শাহনেওয়াজ, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনি ইজরায়েল, ওসি (তদন্ত) আসগর আলী, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মফিজুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির সাইফুল ইসলাম বকুল, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, পৌর আমির মাহের আলী, সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম, জেলা যুব বিভাগের সম্পাদক নুর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক প্রমুখ। সভা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর আগে তিন দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করেন এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল।
অন্যদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগেও শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু, সহসভাপতি আক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, আনিসুর রহমান, সেকেন্দার আলী, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাগরিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বোরহান উদ্দিন, আলী আসগার সাচ্চু, রাশিদুল ইসলাম, আসিফ আল নুর তানিম, মোখলেসুর রহমান মিলন, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীর উজ্জ্বল, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক নাজিমুদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন, সদস্য সচিব রাজু আহমেদ, ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, সদস্য সচিব রাসেল আহমেদ, কৃষক দলের সদস্যসচিব ডা. ইদ্রিস আলী, পৌর আহ্বায়ক জহুরুল মামুনসহ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা এম এস জোহা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক একেএম ফারুক।


হাটবোয়ালিয়া:
আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া ও ভাংবাড়িয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মহান ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার উদ্যোগ নেয়। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে হাটবোয়ালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাটবোয়ালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং হাটবোয়ালিয়া নতুন কুঁড়ি আইডিয়াল স্কুলে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। পরে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া হাটবোয়ালিয়া বাজার কমিটির উদ্যোগে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ভাংবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ। প্রধান অতিথি ছিলেন ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সানোয়ার হোসেন লাড্ডু। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাজিবুল হক রাজন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক একেএম জাহিদ হোসেন জিন্টু।


দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় প্রভাত ফেরি অনুষ্ঠিত হয়। প্রভাত ফেরি শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নবাগত সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে যারা জীবন দেয়, জাতি তাদের কখনো ভুলবেনা। যারা দেশের জন্য জীবন দেয় জাতি তাদের কখনো ভুলে যাই না, যেমন সালম, রফিক, জব্বার তাদের কখনো ভুলে যাইনি। আমরা সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই, আমরা সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে সোনার বাংলা গড়তে চাই। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেলের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মশিউর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমির মাও. আজিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার নীলিমা আক্তার হ্যাপী, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক ছোটনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরো আয়োজন জুড়ে ভাষা শহিদদের স্মরণে ছিল গভীর শ্রদ্ধা, আবেগ ও দেশাত্মবোধের পরিবেশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরাআন থেকে তিলাওয়াত করেন দামুড়হুদা মডেল মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাও. মুফতী মামুনুর রশীদ।-


দর্শনা:
দর্শনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে দর্শনা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দর্শনা পৌরসভা। সকাল ৮টায় দর্শনা কলেজ শহীদ মিনারে ও কেরু উচ্চবিদ্যালয় শহিদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন কেরুজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম ও কেরুজ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা।
দর্শনা চিনিকলের উদ্যোগে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া দর্শনা সরকারি কলেজ, বাংলাদেশ জাসদ, সিপিবি, ওয়েভ ট্রেড ট্রেনিং সেন্টার, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, অনির্বাণ থিয়েটার ও দর্শনা প্রেসক্লাব শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে দর্শনা পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বাদ আছর দর্শনা বাসস্ট্যান্ড কার্যালয়ে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন শহিদদের স্মরণে ইফতার বিতরণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক হোসেন, আমিরুল ইসলাম, মন্টু, সাজু আহম্মেদ, আনা জোয়ার্দ্দার ও চম্বুক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জসিম উদ্দিন।


জীবননগর:
গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্যদিয়ে জীবননগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে জীবননগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলম রাসেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায়ের শক্তি পেয়েছিল। নতুন প্রজন্মের কাছে একুশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের সবার দায়িত্ব।


এসময় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেকার আলম, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার জুয়েল শেখ, কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন, জীবননগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাফফর রহমান, জীবননগর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যাদব কুমার এবং জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেনসহ অনেকে। আলোচনা সভা শেষে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।


আন্দুলবাড়ীয়া:
সারা দেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ, আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলীম মাদরাসা, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁকা দারুস সালাম দাখিল মাদরাসা, কাশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, বাজার কমিটি এবং সামাজিক সংগঠন পৃথকভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রভাতফেরি, র‍্যালি, আলোচনা সভা, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত। সকাল ৯টায় আন্দুলবাড়ীয়া কলেজে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে উত্তোলন করা হয়। পরে অধ্যক্ষ এস এম এনায়েতুল হকের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি র‍্যালি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আবুল খায়ির।


মেহেরপুর: 
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে র‍্যালি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুণ। গতকাল শনিবার সকাল দশটার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুণের নেতৃত্বে মেহেরপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে র‍্যালিটি বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডক্টর শহিদ শামসুজ্জোহা পার্কে এসে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে শহিদ বেদিতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ভাষা শহিদদের প্রতি পুষ্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  এসময় মেহেরপুর জেলা যুবদল ও মহিলা দল সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা পুষ্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল হক জাহিদ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাইয়েদাতুন নেসা নয়ন, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। ‎এর আগে বিএনপি'র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ সাংবাদিকদের সাথে একুশের চেতনা ও ভোটের অধিকার নিয়ে কথা বলেন।


মুজিবনগর:
বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের মুজিবনগরে পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মদানকারী শহিদদের স্মরণে গতকাল শনিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকালে মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদার নেতৃত্বে র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব এবং জাতীয় জীবনে একুশের চেতনার তাৎপর্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা , কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান , মুজিবনগর থানার ওসি তদন্ত গৌতম কুমার পাল , উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হারিসুল আবিদ সহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স