রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কুড়ুলগাছিতে কমিটিকে না জানিয়ে ঈদগাহর গাছ বিক্রির অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০২-২০২৬ ইং
কুড়ুলগাছিতে কমিটিকে না জানিয়ে ঈদগাহর গাছ বিক্রির অভিযোগ

দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি মাদ্রাসাপাড়া ঈদগাহ ময়দানের বেশ কয়েকটি গাছ কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। 


জানা গেছে, কুড়ুলগাছি মাদ্রাসাপাড়া ঈদগাহ ময়দানের ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৭ জন করে ১৪ জন সদস্য নিয়ে আলাদাভাবে ক্রয় ও বিক্রয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সভাপতি গাছ কাটার আগে এই কমিটির কাউকেই অবহিত করেননি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রয়-বিক্রয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, নুর ইসলাম, আশকার আলী, আলামিন হোসেনসহ একাধিক সদস্য বলেন, ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট। এর মধ্যে ৭ জন করে ১৪ জন সদস্য নিয়ে ক্রয় ও বিক্রয় আলাদা দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঈদগাহ ময়দানের কোনো সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা অপসারণের আগে সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া সংবাদপত্র অথবা মাইকিং করে বিষয়টি সকলকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের কোনো সভা হয়নি, লিখিত বা মৌখিক কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। 


তারা আরও বলেন, আমরা বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে বিস্মিত হই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং কিছু গাছ বিক্রিও করা হয়ে গেছে । এতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি জানাই এবং কাটা গাছগুলো আটক করি। বড় বড় ৯টি গাছের মধ্যে প্রায় ৬/৭টি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। গাছগুলোর আনুমানিক মুল্য প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক এবং কমিটির নিয়ম-কানুন মেনে ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ সভা ডেকে সবার সামনে হিসাব-নিকাশ উপস্থাপন করা হোক।


এ বিষয়ে ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তুহিন রেজা বলেন, আমি ওমরা হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করায় ঘটনাটি আগে জানতে পারিনি। দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাই এবং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলি। গাছ কাটার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সভা বা লিখিত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানতে পেরেছি। সভাপতি তিনি ওনার ক্ষমতার বলে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই কাজটি করেছে। তাই আমি এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছি এবং কাটা গাছগুলোর কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দান আমাদের সবার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পদ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, সভাপতি হিসেবে আমি যতটুকু করেছি রেজুলেশন অনুযায়ী করেছি। আমি তাদেরকে জানিয়েছি যেহেতু রেজুলেশনে সিদ্ধান্ত হয়েছে,দরদাম বেশি পাওয়ায় গাছগুলো বিক্রি করেছি। এছাড়া গাছগুলোর বিক্রির টাকা আমিও অন্য কোনো কিছু করিনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো লাভের জন্য গাছ বিক্রি করিনি।



কমেন্ট বক্স