আলমডাঙ্গা উপজেলাজুড়ে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পৃথক ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে।
নতিডাঙ্গায় অফিস ও দোকানে হামলার অভিযোগ:
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা বাজার এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। জামায়াতের অভিযোগ, বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী তাদের স্থানীয় ওয়ার্ড অফিসে ভাঙচুর চালান এবং কয়েকটি দোকানে লুটপাট করেন। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মধ্যে রয়েছে সুলাইমানের মুদি দোকান, রাজুর মুদি ও চায়ের দোকান এবং ইমাদুলের নাপিতের দোকান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোকানের মালামাল তছনছ করা হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জামায়াত নেতারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল এলাকায় অবস্থান নেয়।
বিএনপির পাল্টা অভিযোগ:
অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, কালীদাসপুর, খেজুরতলা, ভাংবাড়িয়া ও গাংনীসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের এজেন্ট ও কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও দলীয় অফিস, দোকান ও বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিজয় মিছিল ঘিরে সংঘর্ষ:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শ্রীরামপুর কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় উপলক্ষে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি জগন্নাথপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিএনপি সমর্থক ও জামায়াত সমর্থক উভয় পক্ষের কয়েকজন রয়েছেন।
গুরুতর আহত হন মো. রিফাত (২০), যিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি চাচাকে রক্ষা করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। প্রথমে তাকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের দাবি, রিফাত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন।
নতুন করে উত্তেজনা:
গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কালীদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজারে একটি চা-স্টলে ধাক্কাধাক্কি নিয়ে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় সাবেক চেয়ারম্যান নুর ইসলামের (৬২) সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা অফিস