আলমডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এক বর্ণাঢ্য গণমিছিলও বের করা হয়। গতকাল সোমবার বেলা তিনটায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের হাজারো সমর্থক মিছিল সহকারে হাইস্কুল ফুটবল মাঠে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে ফুটবল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘আমি আজ এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে দাঁড়াইনি। আমি দাঁড়িয়েছি আপনাদের সন্তান, ভাই ও বন্ধু হিসেবে। আপনারা আমার প্রতি আস্থা রাখলে আমি আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকব।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আলমডাঙ্গাসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। জেলা এখনো ‘সি’ ক্যাটাগরিতে মূল্যায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যদি আমাদের সংসদে যাওয়ার তাওফিক দেন, তাহলে চুয়াডাঙ্গা জেলার সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই জেলাকে ‘সি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার চেষ্টা করব।’
আলমডাঙ্গার স্বাস্থ্যসেবার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মানুষ গাড়ি-বাড়ি চায় না, অসুস্থ হলে সুচিকিৎসা চায়। আলমডাঙ্গার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শহরে একটি মা ও শিশু হাসপাতাল স্থাপন করা হবে ইনশাল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
কৃষকদের প্রসঙ্গে মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, সার, কীটনাশক ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে এবং কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা যুদ্ধ করেছেন, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের মাথার মুকুট হয়ে থাকবেন।’
উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আলমডাঙ্গার মানুষ পরিবর্তন চায় এবং আজকের এই বিশাল উপস্থিতি তার প্রমাণ। তিনি সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল নেতা-কর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, কেন্দ্রীয় এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফারুক এহসান, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা মনিরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, আলমডাঙ্গার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হুমায়ূন আহমেদ, সাবেক আমির অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামন রেজার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের নেতা কাইয়ুম উদ্দিন হিরোক, জিএ থানা শাখার সভাপতি আব্বাস আলী, জামায়াত নেতা আলতাফ হোসেন, মুসাব আলী, জয়নাল আবেদীন, পৌর আমির মাহের আলী প্রমুখ।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। সভা শেষে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে একটি বিশাল গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমীকরণ প্রতিবেদন