শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জনসমুদ্রে পরিণত হলো চুয়াডাঙ্গার টাউন ফুটবল মাঠ: গণজোয়ারের মাঝে দাঁড়িয়ে শরীফুজ্জামান

  • আপলোড তারিখঃ ১০-০২-২০২৬ ইং
জনসমুদ্রে পরিণত হলো চুয়াডাঙ্গার টাউন ফুটবল মাঠ: গণজোয়ারের মাঝে দাঁড়িয়ে শরীফুজ্জামান
অবহেলার অবসান ও আধুনিক চুয়াডাঙ্গা বিনির্মাণে ধানের শীষে ভোট দিন
১২ তারিখ বিএনপির নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংসদ গঠন হবে : অ্যাড. বুলা
চুয়াডাঙ্গার যদি উন্নতি চান, ধানের শীষে ভোট দেবেন : লে. কর্নেল (অব.) কামরুজ্জামান
১২ তারিখে ধানের শীষের ভূমিধ্বস বিজয় হবে : সিআইপি সাহিদুজ্জামান টরিক


পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর ধানের শীষের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত। তিল ধারণের ঠাঁই নেই চুয়াডাঙ্গা শহরের ঐতিহাসিক টাউন ফুটবল মাঠে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান শরীফের এক অভূতপূর্ব ‘গণজোয়ার’ প্রত্যক্ষ করল জেলাবাসী। গতকাল সোমবার বিকেল চারটায় এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়, যা চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


বিকেল গড়ানোর আগেই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পাড়া-মহল্লা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। ব্যানার-ফেস্টুন আর ধানের শীষের প্রতিকৃতি নিয়ে একেকটি বিশাল মিছিল যখন ঢাক-ঢোল বাজিয়ে রাজপথ কাঁপিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করছিল, তখন চুয়াডাঙ্গার প্রধান প্রধান সড়কগুলো জনস্রোতে রূপ নেয়। নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনায় শহরের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে ‘ধানের শীষ’ স্লোগানে। সভার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলে জনস্রোত আছড়ে পড়ে সংলগ্ন শহীদ আবুল কাশেম সড়কে। মাঠের আশেপাশে জায়গা না পেয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে শহরের কবরি রোড, পৌরসভার মোড় এবং একাডেমি মোড় এলাকায় দাঁড়িয়ে মাইকের আওয়াজে নেতার বক্তব্য মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে দেখা যায়।


জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অকুতোভয় কর্মীরা। তাদের সুশৃঙ্খল প্রচেষ্টায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যান চলাচল সচল রাখা সম্ভব হয়, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।


চুয়াডাঙ্গা-১ আসন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলার সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটুর সুনিপুণ সঞ্চালনায় জনসভার প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। বিশাল এই জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে তিনি যখন তার আবেগঘন বক্তব্য শুরু করেন, তখন পুরো মাঠ করতালিতে ফেটে পড়ে।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আজ ৯ই ফেব্রুয়ারি, দীর্ঘ প্রচারণার শেষ দিন। গত কয়েক মাস আমি আমার দলের সহকর্মী ও নিকটজনদের নিয়ে আপনাদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছি। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, যে মমতায় আগলে রেখেছেন, তার জন্য আমি আপনাদের কাছে চিরঋণী। আপনাদের দুয়ারে গিয়ে আমি কেবল ভোট চাইনি, বরং আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা, সম্ভাবনা আর আগামীর স্বপ্নের কথা শুনেছি।’


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি বিপ্লব, জনশক্তি রপ্তানি ও গার্মেন্টস শিল্পের মাধ্যমে এদেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়েছিলেন। গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে বেগবান করেছেন; বিশেষ করে নারী শিক্ষাকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করে আজ সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীদের জয়জয়কার নিশ্চিত করেছেন। আজ আমাদের নেতা তারেক রহমান আগামীর আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন।’


প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও নারীদের আর্থিক সহায়তার রূপরেখাও তুলে ধরে মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। প্রতিটি কৃষক পাবেন ‘কৃষি কার্ড’, প্রতিটি পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রত্যেকের জন্য নিশ্চিত করা হবে ‘স্বাস্থ্য কার্ড’। আমাদের যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলে উন্নত ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের পর দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং নারীদের হস্তশিল্প ও পশুপালনে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আমার নির্বাচনী এলাকার সংগ্রামী জনতা, চুয়াডাঙ্গা-০১ আসনটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ ১৭ বছর চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। উন্নয়নের মূলধারা থেকে আমরা ছিটকে পড়েছি, সংসদে আমাদের বলিষ্ঠ কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। আমি এই চুয়াডাঙ্গারই সন্তান। এই মাটির ধূলিকণা আর বাতাসের সাথেই আমার নাড়ির সম্পর্ক। আমি আপনাদের অবহেলার অবসান ঘটাতে চাই। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে চুয়াডাঙ্গাকে মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজ মুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো। দলমত নির্বিশেষে যোগ্যদের জন্য বিনা ঘুষে চাকরির নিশ্চয়তা দেব। একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করব। বাইপাস সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করব। প্রতিটি সরকারি বরাদ্দের হিসাব জনসম্মুখে প্রদান করা হবে। প্রতি ৪ মাসে একবার ‘গণশুনানি’ আয়োজন করব, যেখানে আমি সরাসরি আপনাদের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান দেব।’


চুয়াডাঙ্গার দীর্ঘ ১৭ বছরের অবহেলার কথা উল্লেখ করে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আগামী ১২ তারিখ দীর্ঘ ১৭ বছর পর আপনাদের সামনে সুযোগ এসেছে নির্ভয়ে নিজের ভোট দেওয়ার। মনে রাখবেন, ভোট কেবল একটি প্রতীক নয়, এটি আপনার অধিকার ও আগামীর ভাগ্য। যে প্রার্থী সংসদে দাঁড়িয়ে আপনার অধিকার আদায় করে আনতে পারবে, তাকেই বেছে নিন। আমি আপনাদের শাসক হতে আসিনি, সেবক হতে চাই। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চলার পথে আমি বা আমার সহকর্মীদের দ্বারা কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি করজোড়ে ক্ষমা চাচ্ছি। আসুন, সকল বিভেদ ভুলে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি আধুনিক মডেল চুয়াডাঙ্গা গড়ে তুলি। তাই আগামী ১২ তারিখ সকাল সকাল স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যান এবং শহীদ জিয়া, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জননেতা তারেক রহমানের ধানের শীষে ভোট দিন। আপনাদের দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে আমি চুয়াডাঙ্গার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাই। আপনারা দয়া করে আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবেন, ইনশাল্লাহ।’


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু এবং পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি। বক্তারা তাদের বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।


সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. ওয়াহেদুজ্জামান বুলা বলেন, এই উপস্থিতি প্রমাণ করে, আগামী ১২ তারিখ বিএনপির নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংসদ গঠন হবে। এবং শরীফুজ্জামান শরীফ বিজয় লাভ করবে। যারা এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করেছিল, মা-বোনদের যারা লাঞ্ছিত করেছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, আমি কারোর বিরুদ্ধে বলব না। আমি পক্ষে বলব জিয়াউর রহমানের, যিনি স্বাধীনতার ঘোষক ছিল। আর সেই জিয়াউর রহমানের মার্কা ধানের শীষের মার্কা।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কামরুজ্জামান বলেন, ‘এই ১২ ফেব্রুয়ারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন, এই দিন ভোট দিবেন সারা দিন ধানের শীষে। আমাদের প্রার্থী, কান্ডারি, রাখাল রাজা শরীফুজ্জামান শরীফকে জয়যুক্ত করবেন। আপনার পরিবারের সকল মহিলা সদস্যকে বলবেন তারা যেন সবাই শরীফুজ্জামান শরীফকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। আমাদের চুয়াডাঙ্গার যদি উন্নতি চান, ধানের শীষে ভোট দেবেন।’


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিআইপি মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আজকে এই চুয়াডাঙ্গাবাসী প্রমাণ করে দিয়েছে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। সমস্ত ইউনিয়নে ইউনিয়নে এই ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। এই জোয়ার আর থামবে না। এই জোয়ার থামবে ১২ তারিখ সন্ধ্যাবেলা। কাল থেকে প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। আপনারা আপনাদের স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করবেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইবেন। আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দিয়েছে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন রকমের প্রচার চলছে। আমরা চুয়াডাঙ্গার মানুষ জানি ভোট কিন্তু ফেসবুকে হবে না। ভোট হবে কেন্দ্রে। আজকে যারা জামায়াতে ইসলাম করেন, তারা দাঁড়িপাল্লাতেই ভোট দিবেন। তাদেরকে যতই বলেন তারা দাঁড়িপাল্লার বাইরে ভোট দেবে না। আমি তরুণদের উদ্দ্যেশ্যে বলতে চাই- আপনাদের কাছে অনুরোধ করব কারোর কথায় প্ররোচিত হবেন না। আপনাদের বাড়ির ষাটোর্ধ্ব মুরুব্বিকে জিজ্ঞাসা করুন জামায়াতে ইসলামীর কী ভূমিকা এই বাংলাদেশে ছিল।’


সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আপনারা এই দেশে আজ বাংলা ভাষায় কথা বলছেন, সেই বাংলা ভাষার জন্য আমাদের ভাইয়েরা জীবন দিয়ে গিয়েছে। আজকে লাল-সবুজ পতাকা দেখছেন, সবুজ পাসপোর্ট দিয়ে আপনার সন্তানকে বিদেশে পাঠাচ্ছেন, এই পাসপোর্টের জন্য লাখো যুবক জীবন দিয়েছেন, মা-বোনেরা ইজ্জত হারিয়েছেন। কারা করেছে আপনারা মুরুব্বিদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন। এই চুয়াডাঙ্গাবাসী জানে মুক্তিযুদ্ধে সূতিকাগার এই চুয়াডাঙ্গা জেলা। আজও শহীদের রক্তে ভিজে আছে এই চুয়াডাঙ্গা জেলার মাটি। দেশ আজকে দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, অপর দিকে আরেকটি ভাগ যারা বাংলাদেশ চায়নি। আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন ১২ তারিখে এই দেশ মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেবেন, নাকি প্রগতিশীলদের হাতে তুলে দেবেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শরীফুজ্জামান শরীফ চুয়াডাঙ্গার মাটি-মানুষের সাথে মিশে কবে যে চুয়াডাঙ্গার রাখাল রাজা হয়ে গেছে, আমি নিজেও জানতাম না। আমি প্রত্যেক গ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় আমার ভাইয়ের জন্য মানুষের ভালোবাসা দেখেছি। আপনাদের নেতা এই রাখাল রাজা আপনাদের সামনে হাত জোড় করে ভোট চেয়েছে। আপনারা তাকে জয়যুক্ত করবেন, তাকে ভোট দেবেন। আমাদের নেতা তারেবক রহমান ১৭ বছর এই দেশ থেকে বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তার একটা আকাঙ্খাই ছিল যে কবে তিনি এই মাটি-মানুষের সস্পর্শে আসবে। তিনি ফিরেছেন। তিনি বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। এই ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে শরীফুজ্জামানকে যেমন চুয়াডাঙ্গার এমপি বানাবেন, ঠিক তেমনই তারেক রহমানকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানাবেন।’


সাহিদুজ্জামান টরিক চুয়াডাঙ্গাবাসীর তরফ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা থেকে ধানের শীষের যে জোয়ার উঠেছে, এই জোয়ারে ধানের শীষ ১২ তারিখে ভূমিধ্বস বিজয় হবে এবং এই ভূমিধ্বস বিজয়ে শরীফুজ্জামান এমপি হবে, তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে আমরা সোনার বাংলা বানিয়ে ছাড়বো। যারা লাল-সবুজের পতাকাতে খামচে ধরেছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের রক্তের উপরে গর্ব করে হেটে যায়, আপনারা মুরুব্বিদের কাছে তাদের ইতিহাস জানবেন এবং তাদেরকে না বলে দেবেন।’


জনসভায় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম, মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, জেলা মুক্তিযোদ্বা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দীন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা মৎ্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ার হোসেন, আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আ স ম আব্দুর রউফ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম রতন, থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. শামীম রেজা ডালিম, চুয়াডাঙ্গায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি শেফালী বেগম, সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরীন পারভীন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি শরিফুল আলম বিলাস, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হোসেন। এর আগে জনসভায় শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের জেষ্ঠ পুত্র হাফেজ তারিকুল আহমেদ।



কমেন্ট বক্স