সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বুয়েট ও ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় রংধনুর শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০১-২০২৬ ইং
বুয়েট ও ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় রংধনুর শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব

বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল গত বুধকার দিবাগত রাত ২টায় প্রকাশিত হয়েছে। এতে চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে ৩ জন ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা হলো নাফিস সাদিক সিফাত, আরিফুল ইসলাম ও শাহরিয়ার রহমান সিয়াম। সিফাত বুয়েটে মেধা তালিকায় ৩৯ তম স্থান অধিকার করে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি যোগ্যতা অর্জন করেছে। আরিফুল ইসলাম ৬৩৫ তম হয়ে সিভিল এবং সিয়াম ১০৮৬ তম হয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। সিফাত এবং সিয়াম দু'জনেই রংধনুর শিক্ষার্থী ছিল।


এদিকে গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে চুয়াডাঙ্গা সদরের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান করে বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। নাফিস সাদিক সিফাত ৪৫ তম, ফাহিম মুনেম খান ৯৩৫ তম, আব্দুল্লা ওয়ালিদ আকাশ ১৫৯৬ তম, শাহরিয়ার রহমান সিয়াম ১৬৬১ তম ও আরিফুল ইসলাম ১৮৬৬ তম স্থান অধিকার করেছে। অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিট থেকে বিজ্ঞান বিভাগের ওয়ারদা আল জান্নাত ২৬২ তম ও তাসফিয়া করিম সপ্তমী ৪৮৭ তম স্থান অধিকার করে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে।


জান্নাত ও আরিফুল বাদে বাকি সকলেই রংধনুর শিক্ষার্থী ছিল। সিফাত অষ্টম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চার বছরের অধিক সময় রংধনুতে পড়াশোনা করেছে। সিয়াম সেখানে উচ্চমাধ্যমিকের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ধরে রংধনুর শিক্ষার্থী ছিল। আকাশ অষ্টম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চার বছরের অধিক সময় রংধনুতে পড়াশোনা করেছে। মুনেম সপ্তম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় চার বছর রংধনুতে অধ্যয়নরত ছিল। সপ্তমী উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দুই বছরের অধিক সময় একমাত্র রংধনুতেই পড়াশোনা করেছে। রংধনু ছাড়া অফলাইনে সে আর কোথাও পড়েনি।


উল্লেখিত, কৃতি মেধাবীদের মধ্যে সিফাত এবং সিয়াম এই দুজনেই বুয়েটে ভর্তির যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি মেডিকেলেও ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছে- যা বিরল। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে যে ১৪ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে, তার মধ্যে ৯ জনই ছিল রংধনুর শিক্ষার্থী।


উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে হিসাব করে দেখা গেছে যে, চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে এসএসসি এবং এইচএসসিতে যতজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, তার মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত রংধনুতে পড়াশোনা করে। বাকি নয় ভাগ অন্যান্য প্রাইভেট শিক্ষাদান কেন্দ্র বা শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করে। শুধু তাই না, রংধনুতে ভর্তির জন্য কোনোপ্রকার বাছাই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয় না।


রংধনুর এই সাফল্যে পরিচালক মো. আব্দুস সালাম (সবাই যাকে সালাম স্যার হিসেবে চেনেন) বলেন, এই কৃতিত্ব আমার একার নয়। এখানে এই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা যেমন একজন শিক্ষার্থীর ভিত্তিকে মজবুত করেন; পাশাপাশি বুয়েট, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীরাও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশা ও সাহস সঞ্চার করেন। প্রতিষ্ঠানে এ সমস্ত শিক্ষকদের নিরবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ভালো ফলাফলের জন্য প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সেরা ইউটিউবার শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন ক্লাস করার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করা হয়। ভালো রেজাল্টের পেছনে এটাও একটা কারণ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা মনোভাব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নিয়মিত পরীক্ষা এবং মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়। শুধু তাই না, এই মূল্যায়নের পরে তাদেরকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত‌ও করা হয়। সর্বশেষ, ভালো ফলাফলের জন্য একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে, একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে নিয়মিতভাবে আমি অভিভাবদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলি। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মোটিভেট করা, কাউন্সিলিং করাও সমানতালে চলে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী