চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক চিকিৎসক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এক রোগীর স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিগড়ী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের কন্যা, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মোছা. মারিয়া খাতুন গত ৫ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জানুয়ারি তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরদিন ৯ জানুয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
পরবর্তীতে পরিবার রাজশাহীতে না নিয়ে শিশুটিকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর/পঙ্গু হাসপাতাল)-এ ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় মারিয়ার ডান পায়ের অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শিশুটির জীবন বাঁচাতে দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে তারা মত দেন। পরিবারের সম্মতিতে গত ১৩ জানুয়ারি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারিয়ার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার পর তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি জানতে গেলেও কোনো ধরনের হুমকি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেননি। তারা শুধু ন্যায্য বিচার চান। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার অভিযোগ করে জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটি স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে মো. ইউসুফ আলী, মো. আমজাদ হোসেন, তরিকুল ইসলাম বিল্লু, শাহিন আলম, অনু, মিলুসহ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচিতে আনুমানিক ১৪০ থেকে ১৫০ জন সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক