শিক্ষা, মেধা ও মননশীলতার এক অনন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেকে আবারও প্রমাণ করলেন ড. মো. আব্দুর রশীদ। ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদ্যাপন- ২০২৬’ উপলক্ষে খুলনা বিভাগে কলেজ পর্যায়ে তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এই গুণী শিক্ষক ইতোপূর্বে জেলা পর্যায়ে রেকর্ড আটবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
১৯৮১ সালের ১০ জুলাই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নিভৃতপল্লী ডাউকি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মো. ওয়াজেদ আলী এবং মাতা হামিদা আকতারের সুযোগ্য সন্তান আব্দুর রশীদের শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত মেধাদীপ্ত। ১৯৯৬ সালে এরশাদপুর একাডেমি থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৮ সালে আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকেই ২০০২ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ২০০৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে ২৫তম বিসিএস-এর মাধ্যমে সরকারি কলেজে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করে শুরু করেন মানুষ গড়ার কারিগরি।
শিক্ষকতার পাশাপাশি জ্ঞান অন্বেষণে ড. রশীদ সর্বদা নিবেদিত। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘শওকত ওসমানের ছোটগল্পে সমকাল, জীবনবৈচিত্র্য এবং শিল্পরূপ’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বহুমাত্রিক এই প্রতিভাধর একাধারে গবেষক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার ও কবি। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তাঁর গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা। নিজেকে সমৃদ্ধ করতে তিনি এ পর্যন্ত দেশ-বিদেশে ও অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে ২৭৩টি উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
ড. আব্দুর রশীদের পাঠদান পদ্ধতি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠদানকে আনন্দময় করে তোলাই তাঁর মূল দর্শন। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষার্থীদের কেবল একমুখী পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করতে পারলেই প্রকৃত সাফল্য সম্ভব। এক্ষেত্রে তিনি একজন শিক্ষকের ভূমিকাকে ‘মানসিক ডাক্তার’-এর সাথে তুলনা করেন। অত্যন্ত বিনয়ী এই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সফলতার পাশাপাশি তাদের ব্যর্থতাকেও নিজের বলে মনে করেন।
যদিও কথাসাহিত্য ও সমকালীন কবিতা-গল্পে তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে, তবুও এই জ্ঞানতাপসের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় অবস্থান করে তাঁর প্রাণপ্রিয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। খুলনা বিভাগে তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি চুয়াডাঙ্গাসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
নিজস্ব প্রতিবেদক