সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভায় ডিসি কামাল হোসেন

প্রতিটি সেক্টরে ভেজালের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হতে হবে
  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০১-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভায় ডিসি কামাল হোসেন

চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন খাবারের দোকানে যারা ভেজাল পণ্য বিক্রি করবেন, প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সবচেয়ে বেশি ভেজাল পাওয়া যায় ওষুধের দোকানে। তাই চুয়াডাঙ্গা জেলার সব ওষুধের দোকান নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে।


জেলা প্রশাসক বলেন, বেশিরভাগ ওষুধ ব্যবসায়ীর বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স নেই। অনেকেই অন্যের লাইসেন্সের ফটোকপি ব্যবহার করে ব্যবসা চালাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। কোনো ব্যবসায়ীর ড্রাগ লাইসেন্স না থাকলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এ বিষয়ে ড্রাগ ইন্সপেক্টরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কোনোভাবেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। কারণ ওষুধ মানুষের জীবন-মরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যারা এসব অনিয়মে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


পণ্যের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো পণ্যের লেবেল মূল্য কেবলমাত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই নির্ধারণ করতে পারে। অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছামতো মূল্য লিখে ক্রেতাদের প্রতারণা করেন, যা গুরুতর অপরাধ। একইভাবে আমদানি করা পণ্যের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্বও আমদানিকারকের। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।


ভেজাল গুড় প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রচুর পরিমাণ ভেজাল গুড় তৈরি হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে আসতে এসব গুড় বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় যে পরিমাণ গুড় উৎপাদন হয়, সেই পরিমাণ খেজুর গাছ নেই। এ থেকেই বোঝা যায় ভেজালের পরিমাণ কত বেশি। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় গুড়ে ভেজাল মেশান। কিন্তু মানুষ এখন বেশি দাম দিয়েও ভেজালমুক্ত খাবার চায়। তাই প্রয়োজনে লাভ কম হলেও ভালো পণ্য বিক্রি করতে হবে।


ডালের ভেজাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারে রং মিশিয়ে ডাল বিক্রি করা হচ্ছে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, ভেজাল ডাল চিহ্নিত করার সহজ উপায় হলো সেটি পানিতে মিশিয়ে নাড়াচাড়া করলে তাতেই ভেজাল ধরা পড়বে। সন্দেহ হলে ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এবং প্রমাণ মিললে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে এবং সরাসরি রান্নাঘরে গিয়ে তদারকি করতে হবে। হোটেল মালিকের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই; অভিযানে গিয়ে সরাসরি রান্নার স্থান পরিদর্শন করলেই অনিয়ম ধরা পড়বে।


তিনি ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি সেক্টরে ভেজালের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হতে হবে। শুদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া বাজার তদারকির পাশাপাশি মাছের বাজারেও নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি। সামনে রমজান মাস আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সংযমের মাস। এসময় কোনো ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।


জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, নামকাওয়াস্তে অভিযান নয়, ভেজালের বিরুদ্ধে প্রকৃত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অপরাধ দমনের উদ্দেশ্য নিয়েই অভিযান চলবে। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। দায়িত্ব পালন করেও যদি কঠোর না হওয়া যায়, তবে সেটিও অপরাধের শামিল। কর্মকর্তাদের শিথিলতার কারণে ভোক্তারা ভেজাল খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন, এমন পরিস্থিতি আর চলতে দেয়া যাবে না। অপরাধ দমনের উদ্দেশ্য নিয়েই অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি.এম. তারিক-উজ-জামানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, জেলা দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সম্পাদক শাহ আলম সনি, চুয়াডাঙ্গা পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম রিংকু, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, খাদ্য পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান, হোটেল সুইট বেকারী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ পেয়ার মুহাম্মদসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী