চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা। সভায় গত মাসের উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়।
আলোচনার শুরুতেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সময়ে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপরাধের সংখ্যা কমাতে সবাইকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া সভায় খাদ্যে ভেজাল রোধ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পুলিশি টহল বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ে রোধে সদর ও দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। সভায় আরও বলা হয়, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। আত্মহত্যা প্রবণতা রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঠান বৈঠকে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেয়া হয়। খাদ্যে ভেজাল রোধে ফল, শাকসবজি ও মাছে কার্বাইড, ফরমালিন বা অন্য কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং এর কুফল সম্পর্কে ধর্মীয় ও সামাজিক পর্যায়ে প্রচারণা বাড়ানোর পরামর্শও দেয়া হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রিফাত আরা বলেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, সে বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ উপজেলার মানুষের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, উঠান বৈঠক ও প্রচার-প্রচারণা চালানোর পরও বাল্যবিবাহ পুরোপুরি রোধ করা যাচ্ছে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
ইউএনও আরও বলেন, সমাজের অনিয়ম ও অপরাধ রোধে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা যদি সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হই, তাহলে মাদক, চুরি কিংবা বাল্যবিয়ের মতো অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি প্রমুখ। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মৌমিতা পারভীন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত, পৌর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীমা সুলতান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহাজালাল খানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক