চুয়াডাঙ্গায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের প্রশিক্ষণকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৩০ জন প্রান্তিক পর্যায়ের গাছি অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বিপণন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান।
বক্তারা জানান, চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এ জেলায় বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে সংগৃহীত রস সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উন্নতমানের খেজুরের গুড় উৎপাদন করা সম্ভব। চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত খেজুরের গুড় বর্তমানে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সরবরাহ হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে খেজুরের গুড় দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। গাছিরা নিজেদের নানা প্রশ্ন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সমাধান নেন। এসময় খেজুর গাছ কাটার সঠিক পদ্ধতি, বেশি রস সংগ্রহের কৌশল, রস জ্বালানোর নিয়ম, গুড়ের প্যাকেজিং, বাজারজাতকরণ ও ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও হিসাব) মেহেদী হাসান বলেন, খেজুরের গুড় সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের বয়াম ব্যবহার না করে কাঁচের বয়ামে গুড় সংরক্ষণ করলে এর গুণগত মান ভালো থাকে। সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে গুড় সংরক্ষণ করা গেলে সারা বছর দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের গাছিরা যদি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গুড় সংরক্ষণ করতে পারেন, তাহলে তাদের অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হবে। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার পরিদর্শক সহিদুল ইসলাম, খেজুরের রস প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির, গুড় ব্যবসায়ীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক পর্যায়ের গাছিরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক