আলমডাঙ্গায় বই পড়ার সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে মেধার বিকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ‘স্বয়ম্বর’ ও ‘নিমগ্ন’ পাঠাগার। শহরের দুটি ভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত এই দুই জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র এখন স্থানীয় বইপ্রেমীদের প্রধান গন্তব্য। আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ততম এলাকা হাইরোডের জেস টাওয়ারে অবস্থিত ‘স্বয়ম্বর’ পাঠাগার। এটি মূলত জ্ঞানপিপাসু পাঠকদের জন্য এক আস্থার জায়গা।
এখানে রয়েছে ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিশুতোষের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। বিশেষ করে বিজ্ঞানের জটিল বিষয় এবং ইতিহাসের সঠিক তথ্য জানতে শিক্ষার্থীরা এখানে নিয়মিত ভিড় করে। পাঠকদের সমসাময়িক বিশ্ব ও দেশ সম্পর্কে সচেতন রাখতে এই পাঠাগারে নিয়মিত তিনটি দৈনিক জাতীয় পত্রিকা রাখা হয়। এছাড়া নিয়মিত রাখা হয় বিভিন্ন মাসিক পত্রিকা, যা পাঠকদের সাধারণ জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এই পাঠাগারটি অত্যন্ত সহজলভ্য। স্বয়ম্বর লাইব্রেরিটি বৃহস্পতিবার বাদে প্রতিদিন বিকেল হতে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গার শিলা সিনেমা হলের পাশে ইলিয়াস টাওয়ারে গড়ে উঠেছে ‘নিমগ্ন’ পাঠাগার। নামের মতোই এখানে পাঠকরা পড়াশোনায় নিমগ্ন থাকতে পারেন। এই পাঠাগারটি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে এর ইতিহাস, সাহিত্য ও ধর্মীয় বইয়ের বিশাল সংগ্রহের জন্য। মানব জীবনের আদর্শ ও নৈতিকতা চর্চায় ধর্মীয় বইয়ের এই সংগ্রহ পাঠকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সাহিত্য ও ইতিহাসের সমান্তরালে ধর্মীয় দর্শনের চর্চা কেন্দ্র হিসেবে এই পাঠাগারটি এলাকায় একটি অনন্য স্থান দখল করে নিয়েছে। লাইব্রেরিটি শনিবার বাদে প্রতিদিন বিকেল ৪ টা হতে ৫.৩০মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে।
এই দুটি পাঠাগার কেবল বইয়ের আধার নয়, বরং তারা আলমডাঙ্গার সাংস্কৃতিক চেতনার ধারক ও বাহক। জেস টাওয়ারের ‘স্বয়ম্বর’ আর ইলিয়াস টাওয়ারের ‘নিমগ্ন’এই দুই পাঠাগার যেন আলমডাঙ্গার দুই জ্ঞানগৃহ। পর্যাপ্ত সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই প্রতিষ্ঠান দুটি জেলার গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশে জ্ঞানের আলো ছড়াতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা