মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু, একদিনে তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস

পাঁচ দিন পর সূর্যের দেখা মিললেও তীব্র শীত অনুভূত
  • আপলোড তারিখঃ ০১-০১-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু, একদিনে তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। হিমাঙ্কের কাছাকাছি নামা তাপমাত্রার সঙ্গে টানা পাঁচ দিন পর সূর্যের দেখা মিলেছে। তবে ছিল না রোদের তেমন তেজ। ফলে তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জেলাজুড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সৃষ্টি করেছে।


চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়া জেলায় গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে একটানা সূর্যের দেখা মেলেনি। অবশেষে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রোদ বের হয়। ২৭ ডিসেম্বর ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি, ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করলেও গতকাল বুধবার একলাফে তাপমাত্রা কমেছে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৬ শতাংশ হওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে, যা মানুষের জীবনযাত্রায় হঠাৎ করে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।


চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানান, ‘চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবং এটি কয়েকদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কুয়াশা একটু কম আছে, এটি দু-একদিন কম থাকবে। তবে সকালে একটু কুয়াশা থাকবে এবং দুপুরের পর থেকে রোদ বের হবে।’


এদিকে, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ। রাস্তাঘাটে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। ভ্যানচালক মুরাদ বলেন, ‘আমাদের ভ্যানে এই শীতে কেউ উঠতে চাইনা। সবাই অটোতে ওঠে। ভাড়া আগের মতো হয় না। আর শীতে হাত-পা জমে থাকে, ভ্যানের প্যাডেল মারাও খুব কষ্টের। একদিন ভ্যান না নিয়ে বের হলে মালিক আর ভ্যান দেবে না। রোজ ২০০ টাকা তাকে দিতে হয়, কিন্তু ইদানিং ২০০ টাকা  উপার্জন করাই মুশকিল। শীতে কেউ বের হচ্ছে না, আমরাও যাত্রী পাচ্ছি না। তারপর আবার ভ্যানে কেউ উঠতে চায় না শীতের জন্য।’ 


স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, ‘শীতে কম্বলের ভেতর থেকে উঠতেই মন চাই না। কিন্তু না উঠেও তো উপায় নেই। গত কয়েকদিন সূর্যের দেখা নেই, আজ একটু রোদ পড়ছে। চুয়াডাঙ্গায় বরাবরই শীতটা একটু বেশিই। শীতের জন্যই বিখ্যাত চুয়াডাঙ্গা। অন্যান্য জেলার তুলনায় এই জেলাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে।’


নরসুন্দর বিজয় বলেন, ‘গত কয়েকদিন গ্রাহকই আসছিলো না। মনে হয় শীতেরন্য। চুয়াডাঙ্গায় কয়েকদিন খুব শীত পড়লো। এই শীতে আমি নিজেই গোসল করতে ভয় পাই। আমার গ্রাহকেরা গোসলের ভয়েই হয়তো আসছিলো না, কারণ চুল কাটলে তো গোসল করতেই হবে। তবে আজ সকাল থেকে ভরপুর গ্রাহক আসছে। একটু রোদ পড়ছে, শীতের তীব্রতাও একটু কমেছে।


এদিকে, ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোতে ঠান্ডা-কাঁশির ওষুধের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় ধানের চারা ও শীতকালীন শাকসবজির খেতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী