চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি ১৯৮৫ ব্যাচের বন্ধুদের মিলনমেলায় আনন্দ, স্মৃতি আর বন্ধুত্বে ভরে ওঠে পুরো দিন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবার একত্রিত হয়ে পুরোনো দিনের সহপাঠীরা উদ্যাপন করেন ক্লাবের ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বন্ধু মিলন-৮৫। ‘অটুট থাক বন্ধুত্বের বন্ধন’ স্লোগানে গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে দিনব্যাপী এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে শতাধিক বন্ধু অংশ নেন। সকাল সাড়ে ৮টায় রেজিস্ট্রেশন ও নাশতার মধ্যদিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর উপহার বিতরণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ক্লাব এসএসসি ৮৫ চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমান শ্যামল। সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং ১০টা ১০ মিনিটে অসুস্থ ও প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন রেজাউল করিম সেণ্টু।
সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়। ১০টা ৪৫ মিনিটে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ সাণ্টু। তিনি বলেন, চার দশক পেরিয়ে গেলেও বন্ধুদের বন্ধন আজও অটুট রয়েছে এবং এই মিলনমেলা তাদের জীবনে এক অনন্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। বেলা ১১টায় কেক কেটে ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘রুবি জয়ন্তী’ উদ্যাপন করা হয়। এরপর ব্যান্ডপার্টির তালে তালে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সরকারি কলেজ চত্বর থেকে শুরু হয়ে বড়বাজার ও কবরী রোড ঘুরে আবার কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
বেলা সাড়ে ১১টায় পরিচয় পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের নাম, পেশা ও বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন। সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাসহ নানা পেশায় প্রতিষ্ঠিত বন্ধুরা পুরোনো দিনের স্মৃতি ভাগাভাগি করেন। ক্লাসরুম, পরীক্ষা আর মাঠের আড্ডার গল্পে ফিরে যায় অনেক বছর আগের দিনগুলো। বেলা ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জুম্মার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি চলে। এরপর শুরু হয় আড্ডা, ফটোসেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাচে মেতে ওঠেন বন্ধুরা। অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন স্মৃতিচারণে। বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় র্যাফেল ড্র, যেখানে ২০ জন বন্ধু আকর্ষণীয় পুরস্কার জিতে নেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদিল হোসেন। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতেও বন্ধুত্বের এই বন্ধন অটুট রাখতে নিয়মিত মিলনমেলার আয়োজন করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই বলেন, চার দশক পর আবার একসঙ্গে বসে গল্প করা, হাসা ও স্মৃতিতে হারিয়ে যাওয়ার এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
নিজস্ব প্রতিবেদক