শীতের হিমেল হাওয়া আর কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এখন দেখা যাচ্ছে এক চেনা দৃশ্য- সারি সারি ভাপা পিঠার দোকান আর চুলা থেকে ওঠা গরম ধোঁয়া। পৌষ মাসের শুরুতেই আলমডাঙ্গার প্রাণকেন্দ্রে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠার আড্ডা। উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের দুই পাশে এবং আশপাশের সড়কের মোড়ে মোড়ে বসেছে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। সন্ধ্যা নামলেই এসব দোকানে ভিড় করছেন অফিসফেরত চাকরিজীবী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মাটির চুলা কিংবা গ্যাসের বার্নারে বসানো হাঁড়ির ওপর বিশেষ কায়দায় তৈরি গরম ভাপা পিঠা যেন শীতের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
দোকানিরা জানান, ভাপা পিঠার স্বাদ নির্ভর করে এর উপকরণের ওপর। আলমডাঙ্গার দোকানগুলোতে সাধারণত দুই ধরনের ভাপা পিঠা পাওয়া যায়- চালের গুঁড়া, খেজুরের গুড় ও নারকেলের মিশ্রণে তৈরি সাধারণ ভাপা পিঠা এবং অতিরিক্ত নারকেল কোরা ও নলেন গুড় দিয়ে তৈরি স্পেশাল ভাপা পিঠা। অনেক দোকানে তিল কিংবা ক্ষীরের পুরও ব্যবহার করা হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি পিঠা ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা গেটের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পিঠা বিক্রি করা সোবহান আলী বলেন, ‘প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করি। শীত যত বাড়ে, বিক্রিও তত বাড়ে। অনেকেই গরম গরম পিঠা খেতে আসেন, আবার কেউ কেউ বাড়ির জন্য পার্সেল নিয়ে যান।’ উপজেলা পরিষদে কাজ শেষে পিঠা খেতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘শীতের সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার স্বাদই আলাদা। বাসায় বানানোর ঝামেলা এড়াতে অফিস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে পিঠা খাওয়াটা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’
আলমডাঙ্গা উপজেলা চত্বরের এই পিঠার বাজার শুধু রসনা তৃপ্তির জায়গা নয়, এটি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসও হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই পিঠার আয়োজন যেন শহুরে ব্যস্ততার মাঝে এনে দিচ্ছে কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দ। উপজেলা পরিষদের সামনে ভাপা পিঠার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নানা ফাস্টফুডও বিক্রি হচ্ছে। শীতের সন্ধ্যায় পরিবার-পরিজন নিয়ে খাবারের স্বাদ ও আড্ডা উপভোগ করতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ গেটে।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা