আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের এক কোণে নীরবে বেঁচে আছেন মনোরা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি আজ সম্পূর্ণ একা। নেই স্বামী, নেই সন্তান। আপন বলতে কেউ না থাকায় বোনের বাড়িতে মাথাগোজার ঠাঁই হলেও পাননি ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করার দিশা। মানুষের দয়ার ওপর নির্ভর করেই কাটছে তার প্রতিটি দিন। ভিক্ষাই হয়ে উঠেছে জীবনের একমাত্র অবলম্বন।
বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া ক্লান্ত শরীর নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দু’মুঠো খাবারের খোঁজে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। কারও দরজায় দু’মুঠো চাল, কারও কাছে সামান্য টাকা- এই সামান্য নিয়েই কোনোরকমে চলে তার দিন। ক্ষুধা, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তা যেন তার নিত্যসঙ্গী। অসুখে পড়লে পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই, রাত নামলেই মাথা গোঁজার মতো নির্ভরতার আশ্রয় বলতে বাঁশ ঝাড়ের নিচে অন্যের জমিতে একটি কুঁড়ি ঘর। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও হয়নি বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এই নামে বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কোনো আবেদন আমার দপ্তরে জমা পড়েনি। আবেদন জমা পড়লে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী শরাফত হোসেন রাসেল বলেন, সমাজে এখনো অসংখ্য অসহায় মানুষ আছে, যারা অনাহারে থাকছে। এই অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের। এছাড়াও সমাজের যারা বিত্তশালী আছেন তারাও এর দায় এড়িয়ে যেতে পারে না।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা