দর্শনার ডিএস ফাজিল মাদ্রাসার আলোচিত সহকারী অধ্যাপক আরিফুজ্জামান আরিফের বিরুদ্ধে এবার বায়না করা জমির টাকা ফেরত চাওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নূরনবীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সহকারী অধ্যাপক আরিফ দর্শনার থানার আকন্দবাড়ীয়া নতুন পাড়া গ্রামের জালাল মাস্টারের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আকন্দবাড়িয়া নতুনপাড়া গ্রামের মৃত দালাল মাস্টারের ছেলে দর্শনের ডিএস ফাজিল মাদ্রাসার আলোচিত সহকারী অধ্যাপক আরিফুজ্জামান আরিফ ৭ মাস পূর্বে একই পাড়ার দর্শনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মৃত আয়নালের ছেলে নূরনবীর কাছ থেকে ৫ কাঠা জমি বিক্রির বায়না বাবদ ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নূরনবী ওই জমির বিষয়ে বেগমপুর ভূমি অফিসে যোগাযোগ করলে তিনি জানতে পারেন ওই জমিতে আরিফের কোনো অংশ নেই। পরে তিনি আরিফের নিকট তার বায়নার টাকা ফেরত চান। তবে আরিফ টাকা ফেরত না দিয়ে ঘুরাতে থাকেন।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে দর্শনা পুরাতন বাজারের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে টুটুল শাহকে নিয়ে দর্শনা রেলবাজার ফুড গোডাউনের সামনে পাওনা টাকা চাইতে গেলে নূর নবীকে সকলের সামনেই বেধড়ক মারধর করেন আরিফ। এসময় তিনি হত্যার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ডিএস ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক আরিফুজ্জামানের বলেন, ‘আমার মায়ের নামে একটি জমি বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে বায়নানামার টাকা নিয়েছিলাম একই গ্রামের নূর নবীর কাছ থেকে। জমিটি আমার মায়ের নামে হওয়ায় খারিজ করতে একটু দেরি হচ্ছিল। এর মধ্যে সে বলে আমি আর জমি নেব না, আমাকে টাকা ফেরত দিতে হবে। আমি ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিলাম, এর মধ্যে তাকে টাকা ফেরত দেব। হঠাৎ করেই নূরনবী একজন বিএনপি নেতাকে নিয়ে এসে আজকেই টাকা দেয়ার কথা বললে আমার সাথে তার একটু বাকবিতণ্ডা হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে দর্শনা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ হয়তো থানায় আসতে পারে। তবে ঘটনা যাই হোক সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়মে সহকারী অধ্যাপক আরিফুজ্জামান আরিফের বিরুদ্ধে একাধিকবার তদন্ত কমিটি ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা তার স্বজন ও নিকটস্থ হওয়ায় সবকিছু ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য জানান, সহকারী অধ্যাপক আরিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম চলমান। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দিলেন আহ্বায়ক নুর আলম সিদ্দিকী মজনু বলেন, ‘এ ঘটনা আমি এখনো অবগত হইনি। ভুক্তভোগী আমার সদস্য। আমার কাছে জানালে অবশ্যই এর সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’