যথাযোগ্য মর্যাদায় আলমডাঙ্গায় হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিষ কুমার বসু। সভায় ইউএনও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা দেশ ও পতাকা পেয়েছি। তারা যদি আত্মত্যাগ না করতেন, তাহলে আমরা আজ ইউএনও, ডিসি, এসপি কিংবা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেতাম না। তাই জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের অত্যান্ত সম্মান অবশ্যই করতে হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পৌর মেয়র এম সবেদ আলী প্রমুখ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী বলেন, ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সেনাদের পরাজিত করে আলমডাঙ্গাকে মুক্ত করা হয়। ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল আরও বেড়ে যায়। এরপর সাব সেক্টর কমান্ডার তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে নিয়মিত বাহিনী, গেরিলা কমান্ডার আব্দুল হান্নান এবং মুজিব বাহিনী কমান্ডার কাজী কামালের মুক্তিযোদ্ধারা যৌথ বৈঠকে আলমডাঙ্গা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা তিনদিক থেকে আলমডাঙ্গা শহরে প্রবেশ করেন। সে সময় পরাজিত পাকিস্তানি সেনারা চুয়াডাঙ্গা থেকে পালিয়ে কুষ্টিয়ার দিকে যেতে থাকে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আল মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির মোহাম্মদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নবাব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা, সহকারী অধ্যাপক মহিতুর রহমান, ড. মাহবুবর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম আজম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, পল্লী উন্নয়ন ব্যাংকের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ। এর আগে সকাল সাড়ে সাতটায় মুক্তিযোদ্ধারা আলমডাঙ্গা শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করা হয়।
আলমডাঙ্গা অফিস