সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গা হানাদারমুক্ত দিবস আজ

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১২-২০২৫ ইং
আলমডাঙ্গা হানাদারমুক্ত দিবস আজ

আজ ৮ ডিসেম্বর, আলমডাঙ্গার মানুষের গৌরবের দিন আলমডাঙ্গা হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিযোদ্ধারা আলমডাঙ্গাকে সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এর আগের দিন, ৭ ডিসেম্বর, আলমডাঙ্গায় ঘটে ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষে পুরো এলাকা ভারি হয়ে ওঠে গোলাগুলির শব্দে। সেই যুদ্ধে পাকবাহিনীকে ধ্বংস করে মুক্তিযোদ্ধারা পরদিন আলমডাঙ্গা শহরে প্রবেশ করেন এবং ৮ ডিসেম্বর আলমডাঙ্গা পাক-হানাদারমুক্ত হয়।


মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবলকে আরও চাঙ্গা করে দেয় ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ভারত সরকারের স্বীকৃতি প্রদান। স্বীকৃতির খবরে আলমডাঙ্গা অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধজয়ের দিকে আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন। সাব-সেক্টর কমান্ডার তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে নিয়মিত বাহিনী, আলমডাঙ্গা থানা গেরিলা কমান্ডার আব্দুল হান্নান, থানা মুজিব বাহিনী কমান্ডার কাজী কামাল এবং অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা মিলে ৮ ডিসেম্বর ভোরে আলমডাঙ্গা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।


আক্রমণের আগের সন্ধ্যায় খবর আসেÑচুয়াডাঙ্গার দিক থেকে পাকবাহিনী নদীর পূর্বপাড় হয়ে আলমডাঙ্গার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেরিলা কমান্ডার আব্দুল হান্নান ও তার সঙ্গীরা নদীর ধারে কৌশলগত পজিশন নিয়ে প্রস্তুত হন।


চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা রোড দিয়ে এগিয়ে আসা হাজারো পাকসেনা ও সামরিক যানকে প্রতিহত করতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপণ লড়াই শুরু করেন। কমান্ডার আব্দুল হান্নান, নুর মোহাম্মদ জকু এবং আরও কয়েকজন লাইট মেশিনগান দিয়ে টানা গুলি চালাতে থাকেন। কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর অগ্রযাত্রা সম্পূর্ণ থামিয়ে দিতে সক্ষম হন।


গুলির শব্দে সতর্ক হয়ে ওঠেন বাঁশবাড়িয়া ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা। সাব–সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে গেরিলারা পাকবাহিনীকে ধাওয়া করতে থাকেন। পালানোর সময় মুক্তিযোদ্ধাদের পুঁতে রাখা অ্যান্টিমাইন বিস্ফোরণে বহু পাকসেনা নিহত হয়। সন্ধ্যার আগে আলমডাঙ্গা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়।


পরদিন সকাল থেকেই আলমডাঙ্গা থানা প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের ঢল নামে। লোকজন স্বাধীনতার আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। মুক্তিযোদ্ধারাও আনন্দে আকাশের দিকে বিজয়গর্জন ছুড়ে দেনÑযার কাছে যে গান ছিল, তাই দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজাকারদের পাকড়াও করে থানায় আনা হয়। পুরো আলমডাঙ্গা স্বাধীনতার উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে।


সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস বলেনÑ ৮ ডিসেম্বর আমাদের অহংকারের দিন। এই দিন আমরা আলমডাঙ্গাকে পাকহানাদার মুক্ত করি। ৭১-এর সেই যুদ্ধ আজও চোখে ভাসে। কী ভয়ংকর ছিল সময়টাÑকিন্তু আমরা পিছপা হইনি। ৮ ডিসেম্বর তাই আলমডাঙ্গাবাসীর কাছে শুধু একটি তারিখ নয়Ñএটি তাদের গৌরব, ত্যাগ, সাহস এবং স্বাধীনতার স্মৃতিতে চিরভাস্বর একটি দিন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা জেলা খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জুবায়ের খানের সঙ্গে