চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুলচারা গ্রামের মৃত আলী হোসেন এবং মোছা. সেলিনা বেগমের বড় মেয়ে তাজিন জান্নাত ইরা এবং আলমডাঙ্গা থানার শ্যামপুর গ্রামের মো. খাদেমুল ইসলাম জনির স্ত্রী, ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার এবং ৪৫তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডার এ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। তাঁর চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন নাজমুল সামি।
আপনার একাডেমিক ফল কী ছিল?
- আমি এসএসসিতে ৪.৭৫, এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। এলএলবি ও এলএলএমে ছিল সিজিপিএ ৪। শিক্ষাজীবনে দুটি স্বর্ণপদক পেয়েছি। কবিতা লিখতে এবং আবৃতি করতে পছন্দ করি, জেলাভিত্তিক এবং বিভাগভিত্তিক বেশ কিছু পুরস্কার এবং সার্টিফিকেট অর্জন করেছি।
বিসিএস নিয়ে স্বপ্নের শুরুটা কীভাবে?
- বাবা বলতেন ‘আমার ইরা হবে আরও দশটা মেয়ের আদর্শ’। আরও বলতেন, ‘মানুষ ছেলে মানুষ করে, আর আমি মেয়ে মানুষের মতো মানুষ করে দেখাবো মেয়েরাও পারে’। কিন্তু খুব ছোটবেলায় আমার ১০ বছর বয়সে আমার বাবা মারা যায়। আমার মা বাবার স্বপ্নটা আমার চোখে আঁকতেন। যা আমি পারি না, মা সেটাও বলে আমার মেয়ে পারবেই। আমার প্রতি মায়ের বিশ্বাস এবং আমাদের জন্য করা কষ্টগুলো আমাকে পড়াশোনায় উৎসাহী করে তুলতো। এইচএসসির রেজাল্টের পর বিয়ে হয়, স্বামীকে আমার স্বপ্নের কথা জানায়। অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করতো- যে বিসিএস তো দূরের কথা, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পড়িয়ে পিয়নের চাকরিও হবে না। তবুও কারো কথা কানে না নিয়ে সে পাশে থেকেছে, সে ছাড়া স্বপ্নটা অনেক আগেই থেমে যেত। সে শুধু আমার জীবনসঙ্গী না, সে আমার সহযোদ্ধা। আমার মা এবং স্বামীর আমার প্রতি বিশ্বাস আমাকে আরও দৃঢ় পরিশ্রমী করে তুলেছিল এবং আমি জানতাম আমাকে পারতেই হবে। বিসিএস নিয়ে স্বপ্নের শুরুটাও এইভাবেই হয়েছিল।
প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশল ও রুটিন কেমন ছিল? কোন বিষয়গুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন?
- যেহেতু বিসিএস পরীক্ষায় পছন্দের ক্যাডার পাওয়ার সম্ভবনা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার ওপর অনেকটা নির্ভর করে, তাই শুরুতে লিখিত প্রস্তুতি দিয়েই শুরু করেছিলাম। প্রথমে সিলেবাস টা ভালোভাবে বুঝে নিয়ে সেই অনুসারে আমি কোনটাতে বেশি গুরুত্ব দিবো, বা কোনটাতে আমার ভালো করা প্রয়োজন, সেইভাবে রুটিন সাজিয়েছি। অবশ্যই বাংলা বা ইংরেজি গ্রামারের বেসিক আগে স্ট্রং করেছি। নিয়মিত অল্প করে ভোকাবুলারি পড়তাম এবং সেটা নোট করে রাখতাম। পরেরদিন নতুন শব্দ পড়ার আগে আমি আগের দিনের ভোকাবুলারি রিভাইজ দিয়ে নিতাম। পড়া ভুলে যাওয়া একটা সমস্যা সবার থাকে, এক্ষেত্রে আমি প্রচুর লিখতাম, যে জিনিসটা মনে থাকতো না বা কঠিন লাগতো, সেইটা দেখে দেখে কয়েকবার লিখলেই মুখস্ত হতে থাকতো। পরবর্তীতে না দেখে লেখার সময় যেখানে ভুল হতো, আবার দেখে নিতাম। যেই বিষয়গুলো বুঝতাম না, সেগুলোর জন্য ইউটিউব খুব ভালো বিকল্প, টপিক ধরে সার্চ দিলে অনেক ভালো ভালো লেকচার সামনে আসে, ভিডিও দেখে টপিক নিয়ে সম্পূর্ণ ক্লিয়ার হতাম।
নিজেকে প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন?
- বিসিএস-এর জন্য যেহেতু অনার্সের প্রথম থেকেই একটু একটু করে পড়তাম, তাই ৪র্থ বর্ষের আগেই মোটামুটি সিলেবাস শেষ করেছিলাম। তাই লিখিত ব্যাপারে বেশি নজর দিয়েছি, এতে লেখা দ্রুত হয়েছে এবং ভুলগুলো কোথায় হচ্ছে, বুঝতে পারতাম।
বিসিএসের আগে কতগুলো চাকরির আবেদন করেছেন, এর মধ্যে কোনগুলোতে ডাক পেয়েছিলেন?
- বিসিএসের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক এডিতে আবেদন করেছিলাম, এবং চাকরি পেয়েছিলাম। এছাড়া আর কোনো চাকরির পরীক্ষা দিইনি।
নতুন বিসিএস প্রার্থীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
- যে বিষয়টি পড়া শেষ হলো, সেইটা নিয়মিত রিভাইজ দিতে হবে, নিয়মিত নিজে নিজেই ঘড়ির টাইম ধরে পরীক্ষা দিতে হবে। এতে পরীক্ষাতে সময়ের ব্যাপারটা আয়ত্ব হবে, আবার ভুলগুলোও বুঝতে পারবেন। একদিন ১০-১২ ঘণ্টা পড়ে কয়েকদিন না পড়াশোনা করে, নিয়মিত ৫-৬ ঘণ্টা পড়তে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক