দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে দর্শনা কেরু সবুজ সংগঠনের উদ্যোগে এ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন সবুজ সংগঠনের নেতা ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ। তিনি বলেন, ‘আমি শ্রমিকদের স্বার্থে বিগত চার বছর ধরে কাজ করেছি। ১০৪ জন শ্রমিককে স্থায়ী করেছি। কিন্তু আমার বড় ভাই তৈয়ব আলী ও মনিরুল ইসলাম প্রিন্স আমার শ্রমিক সমাবেশ দেখে বিরক্ত ও ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, কেরুজ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বন্ধ করার পেছনে মনিরুল ইসলাম প্রিন্স ভূমিকা রেখেছেন। ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ বলেন, ‘গত ১৬ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ সাধারণ সভায় নির্বাচন ঘোষণার পর কীভাবে ভোট বন্ধ হলো, সবাই জানেন। তৈয়ব ভাই ২ নম্বর বাংলোতে গিয়ে নির্বাচন বন্ধের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে ১২ মার্চ দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন ঘোষণার পর এলাকায় বোমা রাখা ও নানা নাটক তৈরি করা হয়। এগুলো করেছিল তৈয়ব ভাই ও প্রিন্স চাচা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন নির্বাচন বন্ধের জন্য আমাকেই দায়ী করা হচ্ছে। আমাদেরকে এমডির কুকুর বলা হয়েছে। অথচ অতীতে যারা ম্যানেজমেন্টের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তারা-ই ছিলেন এমডির কুকুর।’ ফিরোজ সবুজ অভিযোগ করেন, তাঁকে বিভিন্ন সময় অবমাননাকর ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে এবং হঠকারিতা করা হয়েছে। তিনি জানান, সর্বশেষ জিডিএল এসে ৪০ জন নেতার স্বাক্ষরের ভিত্তিতে সবাই নির্বাচনে রাজি হন। এরপরও নির্বাচন বন্ধ করা হলো কার ইশারায়, তা আন্দোলনকারী শ্রমিকদের কাছে পরিষ্কার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি এমডিকে বলেছি, আইন অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনে যেন কোনো ফাঁক-ফোকর না থাকে। যেন কেউ ষড়যন্ত্র করে আর বন্ধ করতে না পারে।’ সমাবেশ শেষে ফিরোজ আহম্মেদ সবুজকে সামনে রেখে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। তারা দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সংগঠনের সদস্য রবিউল ইসলাম, বদিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম (গুফরান), আব্দুল জলিল প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শ্রমিক নেতা আরজুল্লা।
দর্শনা অফিস