মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদায় জাতীয় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন

ফাঁকা স্টল, তৃণমূল খামারির অংশগ্রহণ শূন্য
  • আপলোড তারিখঃ ২৭-১১-২০২৫ ইং
দামুড়হুদায় জাতীয় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন

‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি-প্রাণিসম্পদ হবে উন্নতি’ প্রতিপাদ্যে দামুড়হুদায় জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন হলেও আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ দায়সারা, এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় খামারি, উদ্যোক্তা ও সচেতন মহল। জানা গেছে, উপজেলার বড় বড় খামারিদের কেউই মেলার বিষয়ে অবহিত ছিলেন না। উদ্বোধনী র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন শুধু আয়োজক কমিটির সদস্য এবং সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তা। মাঠে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টল ফাঁকা এবং যে কটি স্টল ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগেই রোগাক্রান্ত পশু-পাখি প্রদর্শন করা হয়েছে, যা নিয়ে সমালোচনা করেছেন অতিথিরাও।


গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের বাস্তবায়নে এবং এলডিডিপি প্রকল্পের সহযোগিতায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ডা. আ.হা.ম. শামীমুজ্জামান। তিনি প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমানসহ অন্যরা।


উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রাণিসম্পদের প্রদর্শনী দেখতে আশা অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, সত্যিকার অর্থে প্রাণিসম্পদ খাতকে উন্নত করতে হলে তৃণমূল প্রান্তিক পর্যায়ের সর্ব শ্রেণির খামারিদের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। এদের অনেকের দাবি,বছরে দুই একবার শুধু প্রাণিসম্পদ মেলায় মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাও প্রকৃত, সচল খামারিদের মূল্যায়ন করা হয় না।


দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের এক ভেড়া খামারি জানান, ‘বিগত ৮-১০ বছর ধরে আমি ভেড়া পালন করে আসছি। বর্তমানে খামারে প্রায় ৫০টি বিভিন্ন জাতের ভেড়া রয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারি প্রাণিসম্পদের কোনো সেবা আমি পায়নি। ছাগল, ভেড়ার মারাত্মক রোগ পিপিআরসহ বিভিন্ন রকমের রোগের টিকাগুলো আমরা বাইরে থেকে নিজ খরচে সংগ্রহ করে থাকি। কোনো টিকা কেউ দেয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সেবা আমি পেলাম না, আর মেলা হলেও জানতে পারি না।’


দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুরশেদ বিন ফয়সাল বলেন, যতদূর জানি, সরকারের এ জাতীয় মেলার উদ্দেশ্য সর্বস্তরের জনগণকে অবহিত করা করা। সরকারের প্রতিটি খাতকে বৃহত্তর উন্নত করণের স্বার্থে প্রয়োজন প্রচারণা ও সমন্বিত উদ্যোগ। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যও মেলা সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অবগত নন পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়নি।


তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর মধ্যদিয়ে এই অঞ্চলের মানুষ যাতে উন্নত প্রজাতির গৃহপালিত পশু পাখি লালন-পালনে উদ্বুদ্ধ হয় এবং এর সুফল উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের মাঝে পৌঁছে যায়। তবে এক্ষেত্রে দামুড়হুদা তার ব্যতিক্রম অনুষ্ঠান হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, ‘আমাকে শুধু সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মেলার বিষয়ে কিছু জানি না।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী