মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদার ডুগডুগি মাঠে চলছে রমরমা জুয়ার আসর

খেলা পরিচালনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
  • আপলোড তারিখঃ ২৩-১১-২০২৫ ইং
দামুড়হুদার ডুগডুগি মাঠে চলছে রমরমা জুয়ার আসর

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের ডুগডুগি এলাকাসহ অন্তত ৮-১০টি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে রমরমা জুয়ার আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ- কয়েকজন চিহ্নিত জুয়াড়ি প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন জুয়ার আসর বসাচ্ছে। ফলে এলাকায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।


জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর জেলা থেকেও জুয়াড়িরা এসে এসব মাঠে অংশ নেয়। প্রতিদিন এসব জুয়ার আসরে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। মাস শেষে এই অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় ৬০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকায়। জুয়ার নেশায় পড়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি।


স্থানীয়রা জানান, ডুগডুগি, তারিনীপুর, লোকনাথপুর, কাদিপুর, কুমারিদাহ, ইটভাটার পেছন, পশুহাটসংলগ্ন এলাকা ও ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠসহ একাধিক স্থানে নিয়মিত বসছে জুয়ার আসর। প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুরের দিকে জুয়াড়িরা চায়ের দোকান বা নির্দিষ্ট পয়েন্টে জড়ো হয়। এরপর পরিচালনা কমিটির লোকজন পাহারা পরিস্থিতি দেখে খেলার নির্ধারিত স্থানে জুয়াড়িদের নিয়ে যায়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুয়ার চক্রের এক সদস্য জানান, বছরের প্রায় দশ মাসই খেলা চলে। মাঝে মাঝে পুলিশি চাপে দু-এক মাস বন্ধ থাকলেও পরে আবার আগের মতোই শুরু হয়। জুয়ার পরিচালনা কমিটি পরিবর্তন হলেও জুয়ার আসর বন্ধ হয় না কখনোই। অনেক জুয়াড়ি টাকা শেষ হলে মোবাইল, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালঙ্কার পর্যন্ত বন্ধক রেখে খেলে।


জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে এলাকায় বাড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। সচেতন মহলের দাবিÑজুয়ার কবলে পড়ে বহু পরিবার শেষ হয়ে গেছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, ‘কার প্রভাবে এই জুয়ার আসর চলছে? কেন বন্ধ হচ্ছে না জুয়া? পুলিশ কি সত্যিই অজানা, নাকি অন্য কোনো কারণ আছে?’ স্থানীয়দের অভিযোগ- জুয়া কেন্দ্র করে একাধিকবার মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তারা বলেন, ‘পুলিশ চাইলে থানা এলাকায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে পারে না। তাই জুয়া বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’


এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে আমরা বারবার অভিযান চালিয়েছি। তারপরও শুনছি কিছু এলাকায় খেলা হচ্ছে। জুয়া বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানা এলাকায় কোনোভাবেই জুয়ার আসর চলতে দেওয়া হবে না।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী