যৌথ বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে দর্শনা কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুষ্টিয়া শ্রম অধিদপ্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ৪৮ জন নেতা-কর্মী নির্বাচনের সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। আর আগামী এক মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কুষ্টিয়া শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেরুজ জেনারেল অফিসের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলা সভায় নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনা হয়।
সভায় কুষ্টিয়া শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম, সহকারী পরিচালক তৌফিক হোসেন এবং শ্রম কর্মকর্তা আবুল হোসেনের কাছে শ্রমিকরা দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানান। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ‘পেট্রোবাংলা শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। তাহলে আমাদের কেরুজ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনে বাধা কোথায়? একটি পক্ষ বারবার নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে সময়ক্ষেপণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেরুজ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন না হওয়ার জন্য দায়ী। গত ছয় মাস ধরে বিভিন্নভাবে বিশেষ করে বাবুল আক্তারকে দিয়ে আদালতে পিটিশন করা হয়েছে। গত ১৮ তারিখ হাইকোর্টে রিট পিটিশন করা হয়। কেরুজ এলাকায় বোমা রাখা, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়- সবই নির্বাচনের পক্ষে এসেছে। এখন আর ভোট দেওয়ার কোনো বাধা নেই। ভোটার তালিকাও তৈরি আছে। কেউ মারা গেছে বা অবসরে গেছে- তাদের বাদ দিয়ে হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে ভোটের তারিখ ও তফসিল ঘোষণা করা হোক।’ মনিরুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ‘আমরা আশা করি অচিরেই ভোটার তালিকা প্রকাশ করে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোটের মাধ্যমে সংগঠনে স্থিতি ফিরিয়ে আনা হবে।’
তবে অপর এক পক্ষ বর্তমানে নির্বাচন না করার যৌক্তিক দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘এখন অফ-সিজন চলছে। শ্রমিক ও কর্মচারীদের অনেকে অনুপস্থিত। ফলে এই সময়ে নির্বাচন করা সমীচীন হবে না। বাইরে থাকা শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।’ ফলে নির্বাচন নিয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা সংশয় বিরাজ করছে।
এসময় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সদ্য সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাবেক সভাপতি তৈয়ব আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল মান্নান, বাবুল আক্তার প্রমুখ। বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতা জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই। কুষ্টিয়া শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নির্বাচনী দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তারিখ জানানো হবে বলে জানান।
দর্শনা অফিস