চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের ধানের শীষের প্রচারণা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও নিপীড়ন সহ্য করে মাঠে থাকা এই ‘শক্ত প্রার্থীকে’ মনোনয়ন দেওয়ায় ধানের শীষের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ, যা তাঁর প্রতিটি গণসংযোগকে মুহূর্তেই উৎসবে পরিণত করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে একটিমাত্র গাড়িতে দু-একজনকে সাথে নিয়ে বের হলেও আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নে তাঁর গণসংযোগে যোগ দিতে শত শত নেতা-কর্মী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে ভাংবাড়িয়ার প্রবেশ মুখে উপস্থিত হন। এই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মুহূর্তেই উৎসবের রূপ নেয়।
গণসংযোগে মনোযোগ দেওয়ার আগে শরীফুজ্জামান শরীফ তাঁর কর্মীদের প্রতি তাঁর সংবেদনশীলতা দেখান। তিনি ভাংবাড়িয়া গ্রামে সরাসরি একজন অসুস্থ কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন, যা নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক গভীর আবেগ ও আস্থার জন্ম দেয়। এরপর তিনি খাদিমপুর ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে গিয়ে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছান। ধানের শীষের প্রার্থীকে এত কাছে পেয়ে সাধারণ মানুষ আবেগে আপ্লুত হন। তাঁরা নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা অকপটে বলেন। শরীফুজ্জামান শরীফ মনযোগ দিয়ে তাঁদের কথা শোনেন এবং আশ্বাস দেন। তাঁর এই সংযোগই প্রমাণ করে, তাঁর প্রচারণা নিছক রাজনৈতিক নয়, এটি জনগণের দুঃখ-কষ্ট মোচনের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা।
গণসংযোগকালে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আমার ভাই ও বোনেরা, এই যে জনতার ঢল, এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা- এটাই আমাদের আসল শক্তি। আমি শুধু একা মনোনয়ন পাইনি, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রতিটি সংগ্রামী নেতা-কর্মী ও সমর্থক এই মনোনয়ন পেয়েছেন। আপনারা গত ১৭ বছর ধরে যে মামলা, হামলা সহ্য করেছেন, যে রক্ত ঝরিয়েছেন, এই বিজয় তারই স্বীকৃতি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, এখন আর পিছিয়ে থাকার সময় নেই। আমরা কেবল ক্ষমতা চাই না, আমরা রাষ্ট্রের প্রতিটি কাঠামোর মেরামত চাই। আমাদের ৩১ দফা হলো এই দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মুক্তির দলিল। আমি আপনাদের মাঝে এসেছি এই মুক্তির বার্তা দিতে। আপনারা আর ভয় পাবেন না। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, এই দুঃসময়ে যারা আমাদের পাশে ছিল, বিজয়ী হওয়ার পর সরকার গঠন করলে তাদের সব কষ্টের জবাব দেওয়া হবে। আপনাদের অংশগ্রহণই ধানের শীষের বিজয় বার্তা দিচ্ছে। এখন শুধু প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট পর্যন্ত মাঠে থাকা।’
শরীফুজ্জামান আরও বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু প্রতীক বদলের নির্বাচন নয়, এটি আপনাদের জীবনের পরিবর্তন আনার নির্বাচন। আমাদের ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার রূপরেখা হলো আমাদের মুক্তির দলিল। আমি আপনাদের কাছে এসেছি সেই ৩১ দফার বার্তা নিয়ে। আপনারা আর ভয় পাবেন না। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং তারেক রহমানের নির্দেশ মেনে আমরা সকলে মিলে এই নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে আনব।’
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের সাথে গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ছালাম বিপ্লব, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ সরোয়ার রোমান, জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন হাবলু, শফিউল হক সালাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম হাসান টুটুল, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী আলম বাবু, সাবেক ছাত্রনেতা হাসিবুল ইসলাম, খাদিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেরেগুল ইসলাম বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. লালন শেখ, যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান, মহাসিন আলী, মিরজাক আলী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হাসান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হাসান, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অপু মালিক, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা, সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদী, যুবদল নেতা মাখাউল, মামুন, তুষারসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে, আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নে এক পথসভায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, ‘আমরা আগামীতে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। আপনাদের ইউনিয়নে অন্য কোনো মতভেদের নেতা-কর্মী থাকলেও তাদের সাথে সৌহদ্যপূর্ণ আচরণ করে সবাইকে নিয়ে ধানের শীষে ভোট করতে হবে। কারো সাথে কোনো বিবাদে জড়ানো যাবে না। ধানের শীষের প্রতীকে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।’
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘যে ভাইটিকে আপনারা অবহেলা করবেন, সে ভাইটিও আপনাদের জন্য এবং দলের জন্য মামলা খেয়েছে, জেল খেটেছে। সুতরাং ধানের শীষকে যারা ভালোবাসে, শহীদ জিয়ার আদর্শকে যারা ভালোবাসে, একটি নেতা-কর্মীও যেন ধানের শীষের বাইরে না থাকে, সেইটা দেখাও আমাদের সবার দায়িত্ব। সে জন্য আমরা সবাই সহানুভূতশীল ও উদারতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ধানের শীষের ভাইদেরকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী দিনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একসাথে কাঁেধ কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।’
এসময় ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি টিপু সুলতান, সিনিয়র সহসভাপতি মিরা, সাধারণ সম্পাদক আতাউল হুদা, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা সহসভাপতি খন্দকার আরিফ, যুগ্ম সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অসুস্থ নেতা মুনসুর আলীসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক