মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় শেষ হলো অরিন্দমের চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

অন্তিম পর্বে সুকান্ত স্মরণোৎসব, নাটক মঞ্চস্থ
  • আপলোড তারিখঃ ২৮-১০-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় শেষ হলো অরিন্দমের চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

‘সমাজে যেখানে ছন্দ পতন, সেখানে ছড়াবো প্রাণের মাতন’ স্লোগানে অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের গতকাল মঙ্গলবার ছিল শেষ দিন। এদিন সন্ধ্যা সাতটায় চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের স্মরণে আলোচনা সভা ও নাটক মঞ্চস্থ হয়। আলোচনার বিষয় ছিল ‘মৃত্যুহীন ধরণীর জ্বলন্ত প্রলাপ’। রচনায় ছিলেন অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহসভাপতি বজলুর রহমান জোয়ার্দার।  অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীও এবং ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়।


অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইয়াকুব আলী জোয়ার্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নওরোজ মোহাম্মাদ সাঈদ। তিনি বলেন, ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য মানুষের কথা বলে। তার একটি উদাহরণ হলো- ‘সারা রাত খড়কুটো জ্বালিয়ে, একটুকরো কাপড়ে ত্রাণ ঢেকে আমরা শীত আটকায়’ এই উক্তিতে বোঝা যায় তার আকুতি, মানুষ কত কষ্টে আছে, কত নিম্নতর জীবনযাপন করছে। তিনি সূর্যের কাছে বলছেন- ‘হে সূর্য তুমি আমাদের তোমার ঘরের উত্তাপ এবং আলো দিও, আর উত্তাপ দিও রাস্তার ধারে ঐ উলঙ্গ ছেলেটাকে’। এখানেই বোঝা যায় সুকান্ত ভট্টাচার্য সকলের জন্যই সকলের কাছে কতটা আকুতি জানাতেন। হোক সে মানুষ কিংবা প্রকৃতি। এছাড়াও মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঘুরে দঁাঁড়াতে সুকান্তের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। সে খুব সল্প সময়ে যে স্মৃতি তৈরি করে রেখে গিয়েছে, তা অকল্পনীয়। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একমাত্র উপায় হলো- সমাজের মন্দ কাজ বর্জন করে সেগুলো প্রতিরোধ করা। সুকান্তের যে চিন্তা-চেতনা, সেগুলো সকল মানুষের ভেতরে হাজারো বছর বেঁচে থাকুক- এই কামনা করি।’


অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন উদীচি শিল্পীগোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা জেলা সংসদের সভাপতি হাবিবি জহির রায়হান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবর। অনুষ্ঠানে উদীচি শিল্পীগোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা জেলা সংসদের পরিবেশনায় সংগীত এবং চুয়াডাঙ্গা আবৃত্তি পর্ষদের পরিবেশনায় আবৃত্তি ও পরবর্তী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত ‘অভিযান’ নাটকটি। উদীচি শিল্পীগোষ্ঠী মাগুরা জেলা সংসদের পরিবেশনায় মঞ্চ নাটকে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীবৃন্দ। আধাঘণ্টা সময়কাল ধরে অনুষ্ঠিত হওয়া নাটকটি উপভোগ করেন দর্শকবৃন্দ।


নাটক শেষে দর্শক নিলয় আহমেদ বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠান উপভোগের যে উত্তেজনা ছিল, তা পূর্ণ হয়নি। বৃষ্টির কারণে খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল আজকের সমাপনী অনুষ্ঠান। তবে নাটকটি মন্দ ছিল না। অনেক ছোট ছোট শিল্পীর অভিনয় ছিল মনোমুগ্ধকর। নাটকের একটি দিক খুব ভালো লেগেছে, তা হলো- নাটকটির কথোপকথন বেশ ছন্দ আকারে সাজানো ছিল। আমি এই শিল্পকলায় এই কদিনে যে তিনটি নাটক হয়েছে, তিনটিই দেখেছি। তবে ‘রথের রশি’ নাটকটি আমার সব থেকে ভালো লেগেছে। এবং ‘নীলকুঠি’ নাটকটির কোরিওগ্রাফি ছিল অসাধারণ এবং আজকের নাটকের কথোপকথন ছিল বেশ ছন্দে মেলানো। এমন অনুষ্ঠান চুয়াডাঙ্গায় নিয়মিত হলে জেলার সুনাম বাড়বে, সাথে জেলার মানুষ সুস্থ বিনোদন উপভোগ করতে পারবে।’


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের জীবন সদস্য কাজল মাহমুদ, তৌহিদ মিটুল, হাসান বিন মনসুর মাসুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মো. আলাউদ্দীন, নাট্য ব্যক্তিত্ব সাজ্জাদ হোসেন, আরিফ হোসেন, সাম্য, চন্দ্রিমাসহ আরও অনেক শিল্পীবৃন্দ।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী