মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গায় মকিম-হাজেরা শিক্ষাবৃত্তির পুনঃসূচনা

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-১০-২০২৫ ইং
আলমডাঙ্গায় মকিম-হাজেরা শিক্ষাবৃত্তির পুনঃসূচনা

আলমডাঙ্গায় মকিম-হাজেরা শিক্ষা বৃত্তির পুনঃসূচনা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে অসচ্ছল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মফিজুর রহমান বৃত্তির টাকা তুলে দেন। আমেরিকার পেনসিলভানিয়ার চেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. মোনায়েম চৌধুরী তাঁর প্রয়াত পিতা-মাতা মীর আব্দুল মকিম চৌধুরী ও বেগম হাজেরা খাতুনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই বৃত্তি পুনরায় চালু করেছেন। ড. চৌধুরী বিশ্বাস করেন, অসচ্ছলতা ও প্রতিকূল পরিবেশ সফলতার বড় অন্তরায়। তাই তিনি আর্থিকভাবে অসচ্ছল, এতিম, অসহায় ও নারী শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছেন।


বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের স্কুল/কলেজের টিউশন ফি, পরীক্ষার ফি, প্রাইভেট টিউটরের খরচ, বই-খাতা ও শিক্ষাসামগ্রীসহ সকল শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় বহন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পরিবারের সহায়তা, পুষ্টিকর খাবার এবং বিশেষ করে মেয়েদের জন্য যাতায়াত ভাতাও প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বাংলায় আরবি উচ্চারণ, অর্থ ও আরবিসহ একটি কোরআন শরিফ এবং বছরে একটি পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই (উপন্যাস, জীবনী বা ইতিহাস) বিনামূল্যে নিতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বই-খাতা, নোটবুক ও অন্যান্য উপকরণও সারা বছর বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।


বর্তমানে আলমডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকার আটজন শিক্ষার্থী দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ড. চৌধুরী ভবিষ্যতে উদ্যোগটি আরও সম্প্রসারণ করতে চান। বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য তিনটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে: পরীক্ষার ফলাফল ধারাবাহিকভাবে উন্নত করতে হবে, পড়াশোনার বাইরে জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো কাজ করা যাবে না এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অন্তত একজন অসহায় শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার জন্য আর্থিকভাবে সহায়তা করতে হবে।


ড. চৌধুরীর পিতা মরহুম মীর আব্দুল মকিম চৌধুরী ১৮৯৬ সালে সুতাইলের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অবিভক্ত ভারতের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারত বিভাগের পর অবসর নিয়ে আলমডাঙ্গায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনিই প্রথম আলমডাঙ্গার হাইরোড পাকা করার জন্য অনুদান নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আলমডাঙ্গা বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন।


ড. চৌধুরীর মা, মরহুমা বেগম হাজেরা খাতুন নান্দিয়ার প্রখ্যাত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার দাদা হাজী শেখ সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন তৎকালীন জমিদার এবং সুপরিচিত দানবীর।


বৃত্তির বাস্তবায়নে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি ড. চৌধুরী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষভাবে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. মো. মহবুব আলম, এবং সমাজকর্মী খন্দকার হাবিবুল করিম চঞ্চলকে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রফেসর আনিস হক কানাডা থেকে সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী