‘মুক্ত আমি বন্ধ ঘরে/বন্দি করে কে আমারে’ স্লোগানে অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাতটায় চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীও এবং ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.এ.কে.এম সাইফুর রশীদ।
তিনি বলেন, ‘আমি অর্থনীতির ছাত্র। সাহিত্য সম্পর্কে আমার ধারণা কম, তবে যারা সাহিত্য চর্চা করে, আমি তাদের খুব সম্মান করি এবং ভালোবাসি। আমি আমার প্রতিষ্ঠানে এমন সাংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলাদা পরিবেশ তৈরি করতে চাই। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেনি, তবে যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন, তাদেরক তারা ছাড়িয়ে গেছেন। তাদের জীবনে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। কিন্তু তারা সেই প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে আমাদের অনেক কিছু উপহার দিয়ে গেছেন। তাদের লেখা কবিতা, গান, নাটক আজও চর্চা হয়। তারা আজও অমর হয়ে আছেন তাদের কবিতা গান এবং তাদের সুন্দর কর্মের মধ্যদিয়ে। আমাদের চুয়াডাঙ্গাতে সাংস্কৃতিক চর্চার খুব অভাব। নিয়মিত বিতর্ক, গান, নাচ, আবৃত্তি চর্চার ভেতরে থাকলে মন উৎফুল্ল থাকে এবং সুন্দর মনের ও বিকাশ ঘটে।
অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের জীবন সদস্য কাজল মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন অরিন্দমের জীবন সদস্য কৃষিবিদ ড. হামিদুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদক-প্রকাশক সরদার আল-আমিন। আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এখানে নাচ-গান, কবিতা, নাটকসহ নানা আয়োজনে মুখরিত হয় শিল্পকলা চত্বর। নৃত্য পরিবেশ করেন জ্যোতি ও সাম্য। গান পরিবেশন করেন বলাকা, সামান্তা, লাবন্য, স্বচ্ছ ও চন্দ্রিমা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রথের রশি নাটকটি। দেবাশীষ ঘোষের নির্দেশনায় মঞ্চ নাটকে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীবৃন্দ। প্রায় ৪০ মিনিটের নাটকটি উপভোগ করেন দর্শকবৃন্দ। নাটক শেষে দর্শক রুমেল রেজা বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে বহু বছর পর এমন নাটক দেখতে পেলাম। শুনেছিলাম ৪ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে শিল্পকলায়, তাই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। নাটকটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর ছিল। প্রত্যেকটি চরিত্র যেন নাটকের চরিত্রের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। সমাজের প্রতি সুন্দর একটা ম্যাসেজও প্রদান করে নাটকটি। জাঁত পাত উঁচু নিচু ভুলে সকলকে এক রশিতে টেনে নেওয়ার আহ্বানের জানান দিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই রথের রশি নাটকটা।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, লালন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসানুজ্জামান মালেক, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাজাহান আলী, নাট্যকার সেলিম আহমেদ, অ্যাড. বজলুর রহমান, কার্পাসডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের শারীরিক শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মহিদ, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের জীবন সদস্য আব্দুল মান্নানসহ আরও অনেকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক