আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে বিলের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে দফায় দফায় হওয়া এ সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মজিবুল ও কোরবান নামে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহতরা হলেন- ওই গ্রামের মৃত আ. সাত্তারের ছেলে কোরবান আলী, শাহজাহানের ছেলে রফিকুল ইসলাম, মৃত আ. রহমানের ছেলে শাহাবুল আলী, সাত্তার মালিথার ছেলে ইয়ামিন আলী ও বকুলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম। অপরপক্ষের আহতরা হলেন- মনসুর আলীর ছেলে সানিম ও কামরুল ইসলামের ছেলে জুবায়েদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামের বর্তমান মেম্বার মনসুর আলী চেংগিস প্রায় তিন বছর আগে প্রায় ৭০ জন স্থানীয়ের কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি পরিত্যক্ত বিল লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। প্রতি বছর তিনি নিয়মিত লিজের টাকা পরিশোধ করতেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর একটি গ্রুপ বিলটির মালিকানা দাবি করে এবং মনসুর আলী চেংগিস মেম্বারের লিজ চুক্তি মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় গত মঙ্গলবার এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে মনসুর আলী চেংগিস মেম্বারের নেতৃত্বে তাঁর সমর্থকরা বিএনপি-সমর্থিত পক্ষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলাকারীরা রামদা, ফালা, ছুরি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে কুপিয়ে অন্তত ১০ জনকে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলায় অংশ নেয় মঞ্জিল হক, মনসুর আলী চেংগিস, ডালিম, কুদ্দুস জোয়ার্দার, সামসুল, আয়ুব, চিহ্নিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী ইমাদুল, বিস্কিট, সানিম ও তানিমসহ আরও অনেকে। এ ঘটনায় পুরো কেশবপুর গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত মজিবুল ও কোরবানকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, দুপুরে নারীসহ আটজন গুরুতর আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিবেদক হাটবোয়ালিয়া