মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

অবশেষে নীণমণিগঞ্জে ভোক্তার অভিযান, স্থানীয়দের অভিযোগ

‘কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে বিসিআইসি ডিলারকে দায়মুক্তি’
  • আপলোড তারিখঃ ২১-১০-২০২৫ ইং
অবশেষে নীণমণিগঞ্জে ভোক্তার অভিযান, স্থানীয়দের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় সদর উপজেলার নীলমনিগজ্ঞ ও আমিরপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।


জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে খাদ্যদ্রব্য খোলা ও অরক্ষিত অবস্থায় বিক্রির কারণে মেসার্স বিসমিল্লাহ হোটেল এবং মেসার্স মুক্তা মিষ্টি হোটেলকে তিন হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে সবচেয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা আসে সার বিক্রেতাদের কাছ থেকে। অবৈধভাবে সার বিক্রয়ের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্স, মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স এবং মেসার্স ব্রাদার্স ট্রেডার্সÑপ্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


তবে সার ব্যবসায়ীদের জরিমানার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন সমালোচনা। স্থানীয়রদের অভিযোগ, খুচরা সার ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হলেও কৃষি অফিসারের যোগসাজশে মূল দোষীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারি সার গোপনে বিসিআইসি সার ডিলার বিক্রি করেন। কয়েকদিন আগে পাশের একটি গোডাউন থেকে ৫১ বস্তা সার জব্দ করে গোডাউনে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলো সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’


    স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার মোমিনপুর বাজারে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন কর্তৃক বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সারের ডিলার আলী রেজা অ্যান্ড আদার্সের ম্যানেজার আব্দুল মুন্নাফের অবৈধভাবে সার বিক্রির বিষয়টি এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে। সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ও মোমিনপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৌরভ হোসেন ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। এসময় পাশের একটি গোডাউন থেকে টিএসপি সার ২০ বস্তা ও ডিএপি সার ৩১ বস্তা উদ্ধার করা করেন। সেদিন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেছিলেন, ডিলারের গোডাউনে ডিএপি ১৯ বস্তা ও টিএসপি ১৭ বস্তা থাকার কথা ছিল। ওই গোডাউনে বেশি সার কোথা থেকে এলো এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো ব্যবস্থায় নেওয়া হয়নি। খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশেই সরকারি ডিলার অবৈধভাবে সার বিক্রি করতে পারছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। কেন নাটক সাজিয়ে ভোক্তার মাধ্যমে জরিমানা করানো হলো। মোবাইল কোর্টসহ ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিলো।
এ বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে কল দিলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায়। আমাদের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল গিয়েছিলেন তাকে ফোন দেন। সদর উপজেলা সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসিফ ইকবালকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। 


ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, ‘যিনি ডিলার তার খাতা দেখেছি। সব ঠিক ছিল। তবে যে খুচরা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়, তারা সার কোথায় পেলেন এটা আমি তদন্ত করবো। প্রয়োজনে তাদের অফিসে ডেকে নিয়ে এসে এটার তদন্ত করবো।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী