চুয়াডাঙ্গায় গরু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর এক বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। শংকরচন্দ্র গ্রামের এক ক্রেতার কাছ থেকে বৈধভাবে কেনা গরুকে ‘চোরাই’ বলে অভিযোগ তোলার পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে গরু দুটি জব্দ হয়। এ ঘটনায় হাট মালিকপক্ষ, ক্রেতা, প্রকৃত মালিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উভয়পক্ষ প্রথমে সদর থানা ও পরে শংকরচন্দ্র ইউপি চেয়ারম্যানের দারস্থ হয়।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি নতুনপাড়ার মৃত তৌহিদ মল্লিকের স্ত্রী সেলিনা খাতুনের দুটি গরু গত ৯ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয় করেন শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে রশিদুল ইসলাম। কেনাকাটায় মধ্যস্থতা করেন তহিরুদ্দিন ভোলা। একই দিন বিকেলে রশিদুল গরু দুটি শিয়ালমারী হাটে বিক্রি করেন।
রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওইদিন রাত ১১টার দিকে হাট মালিকের লোকজন এসে গরু দুটিকে ‘চোরাই’ বলে দাবি করে এবং তাঁকে শনিবার হাটে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। পরদিন শনিবার রশিদুল গরুর মূল মালিক সেলিনা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে হাটে যান। সেখানে উপস্থিতদের সামনে তাঁদের কাছ থেকে গরু বিক্রির টাকা ফেরত নেওয়া হয়। এরপর গরু দুটির একটি সাতগাড়ির আবুল মেম্বারের কাছে এবং অন্যটি গাড়াবাড়িয়ার বিল্লাল মেম্বারের কাছে রাখা হয়।
রাশিদুল আরও বলেন, ‘শনিবার আবুল মেম্বার ও গাড়াবাড়িয়ার বিল্লাল মেম্বার জানায় রোববার সকালে বসে মীমাংসা করা হবে। কিন্তু রোববার থেকে বিল্লাল মেম্বার টালবাহানা শুরু করেন। তাঁকে কল দিলে তিনি জানান, ‘তার কিছু করার নেই, গরু এখন ইকরার কাছে- সব সে জানে।’ বিষয়টি পরে রশিদুল ও সেলিনা খাতুন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর শেফালী খাতুনকে অবহিত করেন।
শেফালী খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘গত শুক্রবার বিকেলে ইকরার সঙ্গে কথা বলে গরুর প্রকৃত মালিক, ব্যাপারী ও মধ্যস্থতাকারীসহ কয়েকজনকে নিয়ে গাড়াবাড়িয়ায় যাই। সেখানে ইকরাকে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ভোলা ও রশিদুলকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। এক পর্যায়ে ভোলাকে মারধর করে সবাইকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে সদর থানার ওসিকে বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু দুই-তিন দিন পার হলেও পুলিশ গরু উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এখন সেনাবাহিনীর কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
অন্যদিকে, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মুনসুর আলীর একটি গরু ৮ অক্টোবর চুরি হয়েছিল। পরে শুনি, শিয়ালমারী হাটে চোরাই গরু উদ্ধার হয়েছে। তাই একটি গরু নিয়ে আসি। পরে ইকরা চাচার কথায় গরুটি মুনসুরের কাছে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘গরুর মালিকেরা থানায় এসেছিলেন, তবে তাঁরা নিজেরাই সমাধানের চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন। পরে তাঁরা মাখালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়ে থানা ত্যাগ করেন।’
নিজস্ব প্রতিবেদক