দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এখনো বিস্তীর্ণ অনাবাদি জমি ও অসংখ্য জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়ের আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবে মেছো বিড়ালের বসবাস দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের সঙ্গে মেছো বিড়ালের দ্বন্দ্ব বেড়ে গেছে; প্রায়ই গ্রামাঞ্চলে এ প্রাণী হত্যার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মেছো বিড়াল তার আয়ুষ্কালে কৃষকের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফসল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। তাই কৃষকের এই প্রাকৃতিক বন্ধুকে সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
এই লক্ষ্যে সম্প্রতি ‘মেছো বিড়াল সংরক্ষণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একান্ত সহকারী সচিব আশিকুর রহমান সমী। গত বুধবার প্রচারণা শেষে সন্ধ্যা সাতটায় তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এএসএফ) রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি ও বড়সালুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
সভায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মেছো বিড়াল রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়- চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা কার্যক্রম ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেছো বিড়াল সংরক্ষণ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে যৌথভাবে সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ এসময় সংগঠনের সদস্য বায়জিদ, নীরব, জিসান, আবদুল্লাহসহ জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।