মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

তিন যুগের ঐতিহ্য বয়ে চলেছে হাটবোয়ালিয়া গরুর হাট

প্রতিসপ্তাহে লাখ লাখ টাকার লেনদেন
  • আপলোড তারিখঃ ১৩-১০-২০২৫ ইং
তিন যুগের ঐতিহ্য বয়ে চলেছে হাটবোয়ালিয়া গরুর হাট

সেলিম রেজা, হাটবোয়ালিয়া:
আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামে অবস্থিত সাপ্তাহিক গরুর হাটটি আজ শুধু একটি পশু বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনের এক প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রায় ৩৬ বছরের পুরনো এই হাট প্রতি শনিবার সকাল ১০টার পর থেকেই জমে ওঠে গরুর হাঁকডাক, দামদর, আর ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে। হাটের সুনাম শুধু আলমডাঙ্গা বা চুয়াডাঙ্গাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দূর-দূরান্তের জেলাগুলো থেকেও নিয়মিত ব্যাপারীরা আসেন এখানে। দিনাজপুর, নওগাঁ, রাজশাহী, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গরু নিয়ে আসে ব্যবসায়ীরা। এই হাটে দেখা মেলে দেশীয় জাতের গরু ছাড়াও সংকর জাতের শাহীওয়াল, পাবনাইয়া, বরিশালী এবং মাঝেমধ্যে ভারতীয় হাইব্রিড জাতের গরুও।


বড়বোয়ালিয়া গ্রামের ব্যাপারী বল্টু মিয়া বলেন, ‘আমি দিনাজপুর থেকে প্রতি হাটে ১০-১৫টা করে সুন্দর বাছুর গরু নিয়ে আসি। আল্লাহর রহমতে সব গরু বিক্রি হয়ে যায়। এখানকার হাটে বেচাবিক্রির পরিবেশ ভালো, তাই নিয়মিত আসি।’ স্থানীয় খামারি রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে গরু পালন করি। এই হাটই আমার গরু বিক্রির প্রধান জায়গা। জেলার বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে গেলেও এই হাটেই পাই কোনো ভোগান্তি ছাড়ায় ন্যায্য দাম ও ভালো ক্রেতা।’


এদিকে, এই গরুর হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে চায়ের দোকান, পশুখাদ্যের দোকান, দড়ি ও গরুর সাজসজ্জার সামগ্রী বিক্রেতাসহ নানা পেশাজীবী মানুষের জীবিকা। এই গ্রামের এক চা-দোকানি বলেন, ‘এই হাট দিয়েই আমাদের সংসার চলে। সপ্তাহে একদিন হাট বসলেও অন্য দিনগুলোতেও এখানে মানুষের চলাচল রয়েছে। অনেক বছর ধরেই এই চা বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছি আমি। হাটের দিন ভালো বিক্রি হয়, এদিন আয়-রোজগারও সবথেকে বেশি বাড়ে।’
হাটবোয়ালিয়া গরুর হাট পশুচিকিৎসা ব্যবস্থায়ও এগিয়ে। স্থানীয় পশু চিকিৎসক মইনুদ্দিন হোসেন বলেন, ‘আমি নিয়মিত হাটে গিয়ে গরু পরীক্ষা করি। কোনো গরুর সমস্যা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দিই। অনেক সময় গরুর টিকাও দিতে হয়। পরিচিত হওয়ায় হাটের দিন বেশ চাপে থাকতে হয় আমাকে। কাজকে ভালোবাসি, পুশুদের সেবা দিতে আমার ভালোলাগে।’


বর্তমানে হাটের ব্যবস্থাপনায় আছেন স্থানীয় তুহিবুল হুদা তুহিন ও আবুল কালাম। তাঁরা বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। হাটে ঢোকার মুখেই গরু ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীও মোতায়েন থাকে।’ তাঁরা আরও জানান, হাটে পয়ঃনিষ্কাশন, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও পশু রাখার জন্যও নির্ধারিত জায়গা রয়েছে।’


হাট ইজারাদার তুহিবুল হুদা তুহিন আরও জানান, মাসের প্রতি শনিবার এই হাটে শতাধিক গরু বেচাকেনা হয় থাকে। প্রতিটি গরু প্রতি ৫০০ টাকা করে খাজনা নেওয়া হয়। গড়ে প্রতি হাটে খাজনা আদায় হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তুহিবুল হুদা তুহিন বলেন, ‘এই হাটে সরকারিভাবে কিছু উন্নয়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনো এখানে নেই। যা বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের অন্যতম কারণ।’  


এদিকে, বছরের প্রতি সপ্তাহে একদিন চলা এই হাটের চিত্র কোরবানির ঈদের আগে আরও জমজমাট রুপ নেয়। হাটবোয়ালিয়ার এই গরুর হাটে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। গরুর সংখ্যা বাড়ে, ভিড়ও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। অস্থায়ী খামারি ও মৌসুমি ব্যাপারীরা ছাড়াও এ সময় হাটে আসা ব্যক্তি পর্যায়ে লালন-পালন করা গরুর সংখ্যা সবথেকে বেশি বৃদ্ধি পায়। গ্রামবাসীদের মতে, হাটবোয়ালিয়ার এই গরুর হাট কেবল একটি পশুর হাট নয়, এটি এই এলাকার গ্রামীন ঐতিহ্য ও অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী