আশ্বিন মাসের শেষ প্রান্তে এসে শীতের আগমনী ছোঁয়া টের পাওয়া যাচ্ছে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়ায়। ভোরবেলার কুয়াশা, ঘাসে জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর হালকা শীতল হাওয়া জানিয়ে দিচ্ছে- শীত আসছে দুয়ারে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি নিচ্ছে নতুন রূপ। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বাতাস বিদায় নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। দিনের বেলায় কিছুটা গরম থাকলেও গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত পড়ছে হালকা কুয়াশা। গতকাল রোববার সকালেও আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় চারপাশ। সড়কে যানবাহনগুলোকে চলতে দেখা গেছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
হাটবোয়ালিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক মুর্শিদ কলিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর হাঁটতে যাই। গত কয়েকদিন ধরে হালকা কুয়াশা পড়ছে, আজ সকালে তুলনামূলক বেশি ঘন কুয়াশা দেখেছি।’ সকালে হাঁটতে আসা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এ বছর শীত কিছুটা আগেই অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় রোদ থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই শীতল হাওয়া আর কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত যত বাড়ে, কুয়াশাও তত ঘন হয়- মনে হয় যেন হালকা বৃষ্টির মতো টিপটিপ কুয়াশা ঝরছে। মাঠের ঘাসের ডগায়, ধানের শীষে ও গাছের পাতায় জমে থাকে বিন্দু বিন্দু শিশির।
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ জীবনে এসেছে নতুন কর্মব্যস্ততা। বাড়ির আঙিনায় বসে নারীরা পুরোনো কাঁথা সেলাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ সুতো বুনছেন, কেউ গল্পে মেতেছেন। অন্যদিকে বাজারে ধুনাইকারদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে- লেপ, তোষক ও কম্বল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। এদিকে, স্থানীয় খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতেও দেখা মিলছে রঙ-বেরঙের অতিথি পাখির। প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ, আর গ্রামীণ জীবনে তার প্রাণবন্ত ছোঁয়া।
প্রতিবেদক হাটবোয়ালিয়া