চুয়াডাঙ্গা জেলার ১১৩টি মন্দির কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ মন্দির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পূজা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ মন্দির প্রাঙ্গণে যৌথভাবে এ পূজা পুনর্মিলনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা। বীর মুক্তিযোদ্ধা মনীন্দ্র নাথ দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পূজা পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন শ্যাম সুন্দর আগরওয়ালা।
অনুষ্ঠানে এবারের দুর্গাপূজা উদ্যাপনকালে যেসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে পূজা উদযাপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। পরে সদ্য পরলোকগমনকারী গিরিধারী লাল মোদী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাসসহ প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি-২০২৫-এর সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়ের সঞ্চালনায় পূজা পুনর্মিলনীতে অতিথি থেকে আরও বক্তব্য দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার সিংহ রায়, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ পুরোহিত ঐক্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি দেবেন্দ্র নাথ দোবে (বাবু লাল), হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক, পূজা উদ্যাপন পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক সুরেশ কুমার আগরওয়ালা, সদস্যসচিব উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি স্বাধীন অধিকারী, চুয়াডাঙ্গা জেলার সদস্যসচিব যোগেন্দ্রনাথ দোবে (হিরালাল দোবে), আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি অমল কুমার বিশ্বাস, দর্শনা পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক অনন্ত সান্তারা, জীবননগর উপজেলা শাখার সভাপতি জীবন সেন, দামুড়হুদা উপজেলা শাখা পূজা প্রতিনিধি শোভন দাস প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐক্য বাংলাদেশের সংস্কৃতির মূলভিত্তি। মন্দির কেবল পূজা-অর্চনার স্থান নয়, এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিটি মন্দিরকে আরও সুসংগঠিত ও আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ নিতে হবে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি মন্দিরে আলাদা তহবিল গঠন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমে। কেউ যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সমাজে অপপ্রচার, হিংসা ও বিদ্বেষ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। পূজা-উৎসবকে ঘিরে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রশংসনীয় হলেও, ভবিষ্যতে মন্দিরভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল ও নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুললে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
এছাড়াও অনুষ্ঠিত পূজা পুনর্মিলনী জেলার চারটি উপজেলার ১১৩টি মন্দিরের সভাপতি, সম্পাদক ও প্রতিনিধি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সমীকরণ প্রতিবেদন