মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের সভা ও সংবাদ সম্মেলন

স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ ৯ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি
  • আপলোড তারিখঃ ০৫-১০-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের সভা ও সংবাদ সম্মেলন

মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আলোচনায় উঠে আসে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে ৯ম গ্রেড বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী। প্রধান অতিথির থেকে বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও ভিক্টোরিয়া জুবিলি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা খাতুন।


সভায় শিক্ষক নেতারা বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার উন্নয়ন ও গুরুত্ব দিন দিন উপেক্ষিত হচ্ছে। তাই প্রয়োজন একটি স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই এ অধিদপ্তর গঠনের ফাইলে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে, কিন্তু অজানা কারণে তা আটকে রয়েছে।’


তারা আরও জানান, বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তার বিপরীতে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে মাত্র ৪ শতাংশের জন্য। ফলে দীর্ঘ ৩২-৩৩ বছর চাকরি করেও শিক্ষকরা অবসরে যাচ্ছেন পদোন্নতি ছাড়াই। এ বৈষম্য দূর করতে সহকারী শিক্ষক পদে ৯ম গ্রেড, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে ৬ষ্ঠ গ্রেড, সিনিয়র শিক্ষক পদে ৫ম গ্রেড এবং প্রিন্সিপ্যাল শিক্ষক পদে ৪র্থ গ্রেড নির্ধারণ করে একটি চারস্তর বিশিষ্ট পদসোপান চালু করার জোর দাবি জানান তারা।

সভায় জানানো হয়, ১৯৭৩ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষক, পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর ও থানা শিক্ষা অফিসার একই গ্রেডভুক্ত এবং বদলিযোগ্য পদ ছিল। ইতিমধ্যে অন্যান্য পদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত হলেও সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকরা এখনও পিছিয়ে। বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।


বক্তারা তাদের বক্তব্যে আরও বলেন, ‘এসব শূন্য পদে পদোন্নতি দিলেই শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা হবে এবং সরকারের কোনো অতিরিক্ত ব্যয়ও হবে না।’ সভায় আরও বলা হয়, ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষক এখনো টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড থেকে বঞ্চিত। এমনকি গত ৪ মে আপিল বিভাগ রায় দিলেও বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ এক বক্তা বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষা ক্যাডার চালু হলে পদোন্নতি জট কমবে, শিক্ষকদের পেশাগত স্বীকৃতি বাড়বে এবং মেধাবীরা এই পেশায় আগ্রহী হবেন।’ 

এদিকে, অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, চাকরি বিধি মেনে মানববন্ধন, মহাসমাবেশসহ নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করা হবে।’


সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাজিদ রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।


 এছাড়াও ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্য থেকে বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক রহিমা খাতুন, সিনিয়র শিক্ষক মিজানুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক মজিবর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক মোমিনুল ইসলাম খান, সিনিয়র শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষক বিএম আফসান আক্তার অ্যানি। 



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী