দীর্ঘদিনের দাবি ও ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত শহর দর্শনায় ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি (স্টপেজ) অবশেষে বাস্তবায়িত হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১২ মিনিটে প্রথমবারের মতো ট্রেনটি দর্শনা হল্ট স্টেশনে থামলে আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো এলাকা। ছাত্র-জনতার ব্যানারে ‘একতা আর আন্দোলনের জয় হলো, সুন্দরবন স্টপেজ বাস্তবায়ন হলো’- এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্টেশন চত্বর। রাতভর চলা আয়োজন আর আবেগঘন মুহূর্তে যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
বহুদিন ধরে খুলনা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের দর্শনায় যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। শিল্প ও সীমান্তনগরী দর্শনায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করলেও সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন থামত না এই স্টেশনে। ফলে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ছাত্র ওনাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে স্টপেজের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। কয়েক দফায় ট্রেন থামিয়ে চালানো আন্দোলনের অবশেষ জয় হয় গত বুধবার দিবাগত রাত (২ অক্টোবর) ১২টা ১২ মিনিটে।
ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আন্দোলনকারীরা। স্টাফদের হাতে তুলে দেওয়া হয় খাবার ও পানীয়। আগত যাত্রীদেরও দেওয়া হয় ফুল ও শুভেচ্ছা উপহার। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রেনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দর্শনাবাসীদের শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন লোকো মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী লোকো মাস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক ও পরিচালক আতিকুর রহমান।
এদিকে, সন্ধ্যা থেকেই স্টেশন এলাকা সাজানো হয় আলোকসজ্জায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ বিভিন্ন বয়সী মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে স্টেশনে ট্রেন থামার জন্য অপেক্ষা করে। দর্শনার জন্য প্রথম দিনে ১৫টি টিকিট বরাদ্দ থাকলেও প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী অন্যান্য স্টেশন থেকে টিকিট সংগ্রহ করে এই স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন। যাত্রী চাহিদার এই বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষের নজরেও আসে। স্থানীয়রা দাবি করেন টিকিটের সংখ্যা বাড়ানো হলে এই স্টপেজ আরও কার্যকর হবে এবং ভোগান্তি কমবে।
দর্শনার প্রবীণ বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘আমার জীবদ্দশায় এইদিনটা দেখে গেলাম, এটা আমাদের বিজয়। ছেলেরা যেভাবে লড়েছে, তাতে গর্ব হয়। অবশেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সেই দাবি বাস্তবায়ন হলো।’
এদিন রাত ১১টার দিকে প্ল্যাটফর্মে বিজয় উৎসব ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তানভীর রহমান অনিক সভাপতিত্ব করেন। মতবিনিময় সভাসহ পুরো আয়োজনে অংশ নেন দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, সমন্বয়ক আলহাজ মশিউর রহমান, এনামুল হক শামুকূল ও ইকবাল হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান এবং জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু।
আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম, থানা যুবদলের সভাপতি জালাল উদ্দিন লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন, জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল খালেক, ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবিদ হাসান রিফাত, ছাত্রশিবিরের দর্শনা থানা সভাপতি লোকমান হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তৌহিদ হোসেন, ছাত্রদলের কলেজ শাখার নেতা পলাশ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল। প্রথম দিনের স্টপেজে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
দর্শনা অফিস