চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কীটনাশক পান করে অসুস্থ হওয়ার ১২ দিন পর রিনি খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোড় রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাবার বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। মৃত রিনি খাতুন উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের আলিহিমের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে সবার অজান্তে বাড়িতে রাখা ঘাসপোড়া কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন রিনি খাতুন। বিষয়টি জানতে পেরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তিন দিন চিকিৎসা নিয়ে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা উন্নতি হলে তাকে বাড়িতে আনা হয়।
নিহত রিনির পিতা আলিহিম জানান, তার মেয়ে ছোটবেলায় ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। এরপর থেকেই সে মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। দুই বছর আগে তার প্রথম বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। তবে সংসারে বনিবনা না হওয়ায় বিচ্ছেদ ঘটে। পরে তিন মাস আগে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার নাস্তিপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জামাই ও রিনি আমাদের বাড়িতেই বসবাস করতেন। তবে, মেয়ে কেন কীটনাশক পান করেছিলো জানেন না তিনি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘বিষপানে আত্মহত্যার খবর পেয়ে ডুমুরিয়া গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
জীবননগর অফিস