সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষকের ক্ষমা প্রার্থনা
  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৯-২০২৫ ইং
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নবদূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মকলেচুর রহমান বাদশার বিরুদ্ধে চার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে। অভিযোগ ওঠার পর সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে মারধর করে স্কুল থেকে বের করে দেন।


এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবিদ আযাদ আকমলের কার্যালয়ে এক সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দোষ স্বীকার করে অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চান। পরে অভিভাবকেরা আপস করে তাকে ক্ষমা করেন, তবে শর্ত দেন- তিনি আর এই বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারবেন না।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার জানায়, বিদ্যালয় চলাকালে প্রধান শিক্ষক তাদের দিয়ে শরীর টিপানোসহ নানা ব্যক্তিগত কাজ করাতেন। এ সুযোগে তিনি প্রায়ই অনৈতিক আচরণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষার্থীদের গোপনাঙ্গে হাত দিতেন, চুম্বন করতেন এবং খাবার কিনে দিয়ে প্রলোভনে রাখার চেষ্টা করতেন।


একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমরা প্রতিবাদ করলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। পরে স্বীকার করে বলেন, বড় শয়তান তাকে দিয়ে কাজটি করিয়েছে। এরপর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করে।’ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হীরা খাতুন ও সাদিয়া আফরোজ দিবা জানান, ঘটনাটির পর থেকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। তিনি ছুটিতে আছেন কি না, সেটাও তারা জানেন না।


স্থানীয় বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আগেই খারাপ ছিল। এখন আবার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে কেবল বদলি নয়, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’


স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ প্রায় ৮-১০ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত মকলেচুর রহমান বিদ্যালয়কে পারিবারিক আস্তানা বানিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। উপজেলা কলোনিতে বসবাস করার সুবাদে নিজেকে প্রভাবশালী মনে করে নানা অনিয়ম করেও পার পেয়ে যেতেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, আপসে মীমাংসা হলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।


এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবিদ আযাদ আকমল জানান, ‘অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষককে ক্ষমা করলেও শর্ত দিয়েছেন তিনি আর ওই বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।’ 



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী