জীবননগরে লাবনী আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের বিশ্বাস পাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে ভোর চারটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। লাবনীর ঘরে লাবিবা নামের চার বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। তার স্বামী জলিল উদ্দিন (২৮) একই গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনি গত ১৪ দিন আগে বাংলাদেশে এসেছেন। তারা সম্পর্কে তারা আপন খালাতো ভাই-বোনও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাবনী হরিহরনগরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। তিনি মহেশপুর থানার কুসুমপুর গ্রামের রেজাউল ইসলামের কন্যা। তার স্বামী জলিল মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরলে তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করছিল। গত রোববার রাতে তারা খাওয়া-দাওয়া করে ঘরে শুয়ে ছিল। এরপর স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে ভোর চারটার দিকে লাবনী খাতুন পাশের ঘরে বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে তার শাশুড়ি লাবনীর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আত্মচিৎকার দিলে তার স্বামী ও পাড়া-প্রতিবেশী ছুটে এসে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
প্রতিবেশীরা আরও জানান, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়াঝাঁটি বা কথা-কাটাকাটি হয়নি। ছোট কন্যা সন্তানকে নিয়ে তাদের সংসার জীবন ভালোই চলছিল। তবে কী কারণে লাবনী আত্মহত্যা করল, সেটা এখনো কেউ জানে না।
এদিকে লাবনীর মৃত্যুর খবর শুনে তার স্বামী জলিল উদ্দিন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
জীবননগর অফিস