দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার ওপর নিশ্বাস ছাড়ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আর গত কয়েকদিন ধরে ভ্যাপসা গরমে কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমভাবে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ছিল মৃদু তাপপ্রবাহ। এর আগে গত ২৩ জুলাই রেকর্ড হয়েছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি। এরপর থেকে ওঠানামা করলেও দেড় মাসের বেশি সময় ধরে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির ওপরে ওঠেনি। দেড় মাস পর এই সেপ্টেম্বরে পরপর দুদিন ৩৬ ডিগ্রি ছুঁয়েছে তাপমাত্রার পারদ। এরই মধ্যে আজ সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর ১২টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে। এবং বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। অস্বাভাবিক এই ভ্যাপসা গরমে চুয়াডাঙ্গার বাজার, অফিস, পরিবহনসহ সর্বত্রই মানুষের কষ্ট বেড়েছে। কর্মজীবী মানুষ বলছেন, ‘গরমে কাজে মন বসছে না। সামান্য হাঁটলেও ঘেমে যাচ্ছি।’
সদর হাসপাতাল সড়কের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে দাঁড়ানো দিনমজুর আয়েশা খাতুন বলেন, ‘সারাদিন রোদে কাজ করি, কিন্তু এই গরমে শরীর আর টানছে না। বাচ্চারাও কষ্ট পাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে স্বস্তি মিলত।’
আরেকজন ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘রোদে ভ্যানে যাত্রী তুলতে গেলে মাথা ঝিম ধরে। একদিকে গরম, অন্যদিকে আয়ও কম। কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। বৃষ্টি হলে শরীরে শন্তি লাগলেও টান পরে পকেটে। ভাড়া কম হয়। কিন্তু এই গরমও সহ্য হয় না।’
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা না থাকায় তাপমাত্রা বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা আগামী বুধবার পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা কমবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক