রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় মাজারকে ঘিরে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যে। জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় শতাধিক মাজার রয়েছে। এই মাজারগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাউল সাধকদের গভীর আবেগ ও বিশ্বাস। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে বারবার আঘাত লাগছে। ফলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চর্চা।
একসময় আলমডাঙ্গার প্রতিটি মাজার ও আখড়ায় বার্ষিক গুরুপ্রাপ্ত দিবস ঘিরে জমজমাট অনুষ্ঠান হতো। দূর-দূরান্ত থেকে সাধু ও দর্শনার্থীরা আসতেন। ভাবগান, পালাগান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর নামকরা শিল্পীদের পরিবেশনায় রাতভর মুখর থাকত গ্রামীণ মেলা। এতে শিল্পী, বাদ্যযন্ত্র বাদক থেকে শুরু করে সাউন্ড-লাইট ব্যবসায়ীরাও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। অধিকাংশ মাজারেই অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ। শিল্পীরা কাজ হারিয়ে কেউ মাঠে শ্রম দিচ্ছেন, কেউ আবার জীবিকার তাগিদে রিকশা চালাচ্ছেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত খোদাবক্স শাহের পুত্র বাউল শিল্পী আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, ‘সংগীতানুষ্ঠান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পীরা ঘরে বসে আছেন। না পারছেন কৃষিকাজ করতে, না পারছেন রিকশা চালাতে। সংগীত পরিবেশনের সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত।’ স্বনামধন্য বংশীবাদক মনোয়ার হোসেন খোকন জানান, বর্তমানে তারা কাজ পাচ্ছেন না। হারমনিয়াম বাদক আশরাফুল আলম মণ্টুও একই হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাউল সাধক সম্প্রদায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বাউল সাধক রইচ উদ্দিন শাহ বলেন, ‘আলমডাঙ্গায় শতাধিক মাজার রয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কেবল ছোট আকারে দিন রক্ষা করা হচ্ছে।’ সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিক হামিদুল আজম বলেন, ‘বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় ঘরে ঘরে বাউল সম্প্রদায়ের আদর্শে দীক্ষিত মানুষ আছেন। আলমডাঙ্গার ফরিদপুর গ্রামকে বলা হয় সাতশ ফকিরের গ্রাম। এখানে শত শত বাউল শিল্পী ও বাদ্যকার রয়েছেন, যাদের সংগীতই জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাঁধা দেওয়া অন্যায়।’
আলমডাঙ্গা অফিস